পুলিশের হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এখন বাইরের বিশ্বে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ জুড়ে এই বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীরা এখন মূলত কনফেডারেটদের প্রতীক এবং সাম্রাজ্যবাদী ভবনকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছেন। খবর রয়টার্সের
জর্জ ফ্লয়েড ইস্যুতে চলা বিক্ষোভে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে কনফেডারেট নেতাদের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। এসব নেতা দাস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমেরিকার আবিষ্কারক হিসেবে খ্যাতি পাওয়া ইতালীয় অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস, ইংল্যান্ডে সিসিল রোডস, অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাপ্টেন জেমস কুক, বেলজিয়ামের কিং লিওপার্ড দ্বিতীয় নামের এসব সাম্রাজ্যবাদীদের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে।
ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু হওয়া বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ এখন সাম্রাজ্যবাদী বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্র্রিজের গবেষক মেরি অনোনোকপনো বলেন, কৃষ্ণাঙ্গরা এখনো দাসের মতোই আচরণের শিকার হন। এটা এখনো বাস্তব, ইতিহাস নয়। নিচু থেকে উঁচু স্তরে কৃষ্ণাঙ্গরা দাস হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছেন। ব্রিটেনের ব্রিস্টলে ১৭ শতাব্দীর দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কলস্টনের ভাস্কর্যও ভেঙে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তার সেই ভাস্কর্য এখন জাদুঘরে রাখা হচ্ছে। এছাড়া বিক্ষোভ থেকে ব্রিটেনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলকেও বর্ণবাদী আখ্যা দেওয়া হয় এবং নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। এ নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, এটা লজ্জাজনক। আমরা আমাদের অতীতকে সম্পাদনা কিংবা মুছে ফেলতে পারব না।
কনফেডারেটের বিরোধীরা বলছেন, এসব ভাস্কর্য, স্মৃতিচিহ্ন এবং পতাকাই বর্ণবাদকে উসকে দেয়। মানুষের মধ্যে এখনো সেই আকাঙ্ক্ষা জাগায়। তাই বর্ণবাদকে নিঃশেষ করতে হলে এগুলো রাখা যাবে না। তবে সমর্থকরা বলছেন, এসব ভাস্কর্য উত্তরাধিকার এবং সংস্কৃতিকে ধারণ করছে। ১৮৬১-৬৫ সালের যুদ্ধের স্মৃতিও বহন করছে এগুলো। আবার কেউ কেউ এগুলোকে অতীতের পাপ বলেও আখ্যায়িত করেছেন।