ফ্লয়েডকাণ্ড বদলে দিচ্ছে ইতিহাসের প্রতি মার্কিনিদের দৃষ্টিভঙ্গি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৬ মে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা দেশে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই বিক্ষোভের আগুনেই এখন বিতর্কিত ইতিহাস পুড়িয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে অনেক মার্কিনি। বিক্ষোভকারীরা দাবি করছে যে বর্ণবাদ, দাসপ্রথা বা দাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মূর্তি প্রকাশ্যে রাখা চলবে না। যদি ইতিহাসের প্রয়োজনে রাখতেই হয়; তবে সেগুলোকে জাদুঘরে স্থানান্তরিত করতে হবে। ইতিমধ্যে আমেরিকায় ভেঙে ফেলা হয়েছে ইতালীয় অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ভাস্কর্য। মিনেসোটা ও ভার্জিনিয়া রাজ্য এবং বোস্টন ও মিয়ামি শহরে কলম্বাসের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের মূর্তি ভেঙে ফেলার দাবির কারণ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, কলম্বাস হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি ষোড়শ শতাব্দীতে আমেরিকায় এসে স্থানীয়দের দাস হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ কলম্বাসের স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। অনেক স্কুলে কলম্বাসের জীবনীতে তাকে নতুন পৃথিবীর আবিষ্কারক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু আমেরিকার আদি অধিবাসীরা বহু বছর ধরেই এই প্রথার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের বক্তব্য, কলম্বাসের অভিযানই আমেরিকার ঔপনিবেশিক শাসনের এবং আদি আমেরিকান অধিবাসীদের গণহত্যার পেছনের অন্যতম কারণ।

বিক্ষোভকারীরা দাবি তুলেছেন, কনফেডারেট জেনারেলদের নামে যেসব সেনানিবাস রয়েছে, সেগুলোরও নাম পরিবর্তন করতে হবে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাজ্য ছিল, যাদের পরিচিতি ছিল কনফেডারেট রাজ্য হিসেবে, যারা একত্রিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র গঠন করার দাবি জানিয়েছিল। পরে আমেরিকার গৃহযুদ্ধে কনফেডারেটদের পরাজয় হয়। কনফেডারেট রাজ্যগুলো দাসপ্রথার সমর্থক ছিল এবং দাসপ্রথাকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষে ছিল। আর এ কারণেই কনফেডারেট নেতাদের মূর্তি অপসারণের দাবি জানাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। তাদের মতে, বর্ণবৈষম্য ও বর্ণবিদ্বেষহীন আমেরিকা প্রতিষ্ঠা করতে হলে বর্ণবাদকে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করা নেতাদের মহিমান্বিত করা বন্ধ করতে হবে। আর বিভিন্ন জায়গায় তাদের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার মাধ্যমেই শুরু করতে হবে সেই কার্যক্রম। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহর ও সংগঠন কনফেডারেট নেতাদের মূর্তি ও কনফেডারেট মতবাদ প্রকাশ করে এমন প্রতীক সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।—বিবিসি