দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে দেশের আবাসিক হোটেলগুলো। এ মাসের শুরুতেই চালু হয়ে গেছে শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। আর গত সোমবার থেকে চালু হয়েছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল। চালু হলেও হোটেলগুলো প্রায় অতিথিশূন্য। ৪৪টি তারকা হোটেলসহ সারাদেশের পর্যটন শহর ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শত শত হোটেল-মোটেলে অতিথি নেই বললেই চলে।
লকডাউন উঠলেও দেশ জুড়ে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ। ট্যুরিস্ট তো দূরের কথা ব্যাবসায়িক প্রয়োজনে চলাচলও নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। ফলে এই করোনাকালে হোটেল ব্যবসা কীভাবে টিকে থাকবে এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন হোটেল মালিক-কর্মচারীরা। এদিকে বিভিন্ন জেলাতেও হোটেলগুলো চালু হচ্ছে বলে জানা গেছে। পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির ৫১টি আবাসিক হোটেল-মোটেল খুলেছে। কিন্তু সেসব হোটেলও অতিথিশূন্য বলেই খবর পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বছর জুড়েই বিদেশিদের যাতায়াত থাকে দেশে। আন্তঃজেলা ব্যবসার জন্য বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়ীদের আসা যাওয়ার কারণে হোটেলগুলো ব্যবসা করে। এখন সেই চলাচল একেবারেই নেই। এছাড়া হোটেলগুলোতে নানারকম মেলা, সভা, সেমিনার ও অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। প্রায় প্রতিটি হোটেলেই বছরের এ সময়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রুমে অতিথি থাকেন। কোনো কোনো হোটেলে শতভাগ রুম পূর্ণ থাকে। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে এবার সে অবস্থা আর নেই।
বর্তমানে শুধু চীনের সঙ্গে সপ্তাহে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু রয়েছে। আর ১৬ জুনস থেকে চালু হচ্ছে লন্ডন ও দোহা ফ্লাইট। তাছাড়া আর সব রুট বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে হোটেল খুললেও কোনো অতিথি আসার সম্ভাবনা নেই। এদিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের রেস্টুরেন্টগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ কম কাস্টমার আসছেন বলে জানা গেছে।
৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএইচএ) বলছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তাদের। বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১ লাখের বেশি শ্রমিক ও কর্মচারী চাকরি হারাবেন। এ খাতের অস্তিত্ব বাঁচাতে আসছে বাজেটে কর মওকুফ ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এদিকে দীর্ঘসময় বন্ধ থাকায় হোটেল মালিকরা যেমন চিন্তিত তেমনি দুশ্চিন্তার প্রহর গুনছেন এ খাতে নিয়োজিত শ্রমিক কর্মচারীরাও। করোনাকালের জন্য অনেকেরই বেতনভাতা বন্ধ। আর্থিক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে কর্মীদের বেতনভাতা দিচ্ছেন না অনেক মালিক। এ অবস্থায় নিদারুণ কষ্টে আছেন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ৫ লাখেরও বেশি মানুষ। এরই মধ্যে কর্মী ছাঁটাই শুরু করে দিয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বিজনেস এক্সিকিউটিভ এহসানুল কবির জানান, ‘আমরা রেস্টুরেন্টগুলো খুলে দিয়েছি। বলরুমসহ অন্যান্য বিজনেস বুকিংও নেওয়া শুরু করেছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে বুকিং খুব কম। এই মুহূর্তে হোটেলে রুমে অল্পকিছু চিকিত্সকরা অবস্থান করছেন। এর বাইরে হোটেলে অতিথি তুলনামূলক কম।’
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এইচ এম হাকিম জানান, কোনো কোনো হোটেল চালু হলেও অতিথি একেবারেই নেই। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া ও ব্যবসা চালু রাখার স্বার্থে হোটেলগুলোকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।