সরঞ্জাম ও জনবলসংকট আট বছরেও কাটেনি

চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য খাতে দৈন্যদশা অবস্থায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয়ে চিকিত্সা সরঞ্জাম ও টেকনিশিয়ানের সংকট বিরাজ করছে। হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রপাতি থাকলে টেকনিশিয়ান নেই, আবার টেকনিশিয়ান থাকলে যন্ত্রপাতি নষ্ট। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধান না করায় এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চিকিত্সকরা জানান, উপজেলা সদরের হাসপাতালগুলোর এসব সমস্যা উচ্চ পর্যায়ে গত সাত-আট বছর তুলে ধরে লেখালেখি হয়েছে। রোগীরা চিকিত্সা পেলেও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে এক্সরে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, অটো-অ্যানালাইজার ও ডেন্টাল ইউনিটের যন্ত্রপাতি। কিন্তু এসব সরঞ্জামের বেশির ভাগই অচল। আবার মেশিন থাকলেও কোথাও কোথাও চালানোর জনবল নেই। ফলে গ্রামের রোগীরা সদর হাসপাতালে চিকিত্সা পেলেও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করতে পারছেন না। তাদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টোর অফিসার জাহেদুল হক বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে নষ্ট যন্ত্রপাতির তালিকা তৈরি করে পাঠিয়েছিলাম। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে লোক এসে সরেজমিনে দেখে গেছেন। তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি।’

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, এক্সরে মেশিনটি কয়েক বছর ধরে নষ্ট । আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন আছে কিন্তু সনোলজিস্ট না থাকায় রোগীরা সেবা পাচ্ছে না। কার্ডিওগ্রাফার নেই। ল্যাব টেকনিশিয়ানের একটি পদ শূন্য রয়েছে।

সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম ইত্তেফাককে বলেন, চিকিত্সক ও নার্স সংকট নেই। তবে হাসপাতালের এক্সরে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, অটো-অ্যানালাইজার মেশিন চালু নেই। এসব মেশিন চালানোর জনবলও নেই। অনেক লেখালেখির পরও কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। কনসালটেন্টের সব পদই শূন্য।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাবেদ বলেন, ইসিজি মেশিন দুটির মধ্যে একটি নষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে এক্সরে মেশিন নষ্ট। ল্যাব টেকনিশিয়ানের একটি পদ শূন্য রয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, এক্সরে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। ইসিজি মেশিন আছে, টেকনিশিয়ান নেই। মেডিক্যাল সহকারীর পাঁচটি পদই শূন্য। ল্যাব টেকনিশিয়ান দুই জনের মধ্যে আছে একজন। সীতাকুন্ডু উপজেলা হাসপাতালেও চিকিত্সা সরঞ্জাম, টেকনিশিয়ান ও চিকিত্সক নিয়ে একই সমস্যা বিরাজ করছে। এক্সরে মেশিনটি গত ৮ বছর যাবত্ অচল ও এটি চালানোর রেডিওগ্রাফার নেই। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন অচল। নেই জনবলও। অটো-অ্যানালাইজার মেশিন নেই।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ৭ বছর যাবত্ এক্সরে মেশিন নষ্ট ও রেডিওগ্রাফার নেই। আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নেই ও সনোলজিস্ট নেই। অ্যানেসথেসিয়া মেশিন গত ১০ সাল থেকে নষ্ট ও জনবল নেই। অটো অ্যানালাইজার ও জনবল নেই। চিকিত্সকের স্বল্পতা রয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনটি গত ২ বছর ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এটি পরিচালনায় সনোলজিস্ট না থাকায় মেশিনটি বসানো যাচ্ছে না। ল্যাব টেকনিশিয়ানের তিনটি পদের মধ্যে দুই জন ডেপুটেশনে রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শফিউর মজুমদার বলেন, এক্সরে মেশিন নষ্ট। কার্ডিওগ্রাফার নেই। ল্যাব সহকারী পদে জনবলের পদ দীর্ঘদিন যাবত্ শূন্যতা বিরাজ করছে। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার লেখালেখি হয়েছে।