চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির নামে চলছে হয়রানি। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে স্বজনরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেও চিকিত্সা পাচ্ছেন না। হাসপাতালের বেড খালি থাকা সত্ত্বেও ভর্তি নেওয়া হয় না। করোনার উপসর্গ থাকলে চিকিত্সা তো দূরের কথা, হাসপাতালের গেট থেকেই রোগীকে অমানবিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে রাস্তায় বা অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনদের সামনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন রোগী। সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে কোভিড ও নন কোভিড রোগীদের মানসম্মত ও হয়রানিমুক্ত চিকিত্সার প্রতিশ্রুতি দেন চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকরা। কিন্তু তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রাখছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। এদিকে যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল ও প্রভাবশালী তারা চিকিত্সার জন্য ছুটছেন রাজধানী ঢাকায়।
জানা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার সপরিবারে চিকিত্সার জন্য ঢাকায় আসেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ। পরিবারের আরেক সদস্যকে নিয়ে তিনি ঢাকার আনোয়ার খান হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহত্ শিল্প গ্রুপ এস আলম পরিবারের একজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর আক্রান্ত আরো কয়েক জন সদস্য ঢাকায় চিকিত্সা নিচ্ছেন। করোনায় আক্রান্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শাহরিয়ার হাসান ও তার মা ঢাকায় চিকিত্সা নিয়েছেন। তারা দুজনেই এখন করোনামুক্ত। রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী ছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পেশার ধনাঢ্য ব্যক্তিরা প্রতিনিয়তই চিকিত্সার জন্য ঢাকায় ছুটছেন।
এদিকে হয়রানিমুক্ত ও মানসম্মত চিকিত্সা মনিটরিংয়ের জন্য গত বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অভিযান শুরু হয়েছে। ঐদিন ওআর নিজাম রোডের মেডিক্যাল সেন্টার, রয়েল হাসপাতাল, সিএসসিআর, পাঁচলাইশের ডেল্টা হাসপাতাল ও মেহেদিবাগের ন্যাশনাল হাসপাতালে পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে এসব অভিযানকে অনেকটা ‘লোক দেখানো’ বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। কেননা প্রথম দিনের অভিযানে কোনো হাসপাতালের ত্রুটি খুঁজে পাননি এবং কাউকে শাস্তিও দেননি। অভিযান শেষে তারা সংবাদ মাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়ে বলেন, এই পাঁচ হাসপাতালে চিকিত্সা প্রদানের ক্ষেত্রে বড়ো ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়নি। কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তবে অভিযানের দ্বিতীয় দিন গতকাল শুক্রবার কয়েকটি হাসপাতালে গিয়ে অক্সিজেন সংকটের কথা শুনেছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, যেহেতু আমরা মাঠে নেমেছি, মানুষ অচিরেই এর সুফল পাবে। পর্যায়ক্রমে আমরা সব হাসপাতালেই যাব।