এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ২০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে

মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বের অনেক দেশে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে সকলকে বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়, বন্ধ হয়ে যায় কল-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যে কারণে বড়ো ধাক্কা লেগেছে অনেক দেশের অর্থনীতিতে। গত এপ্রিলে এই লকডাউনের কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ২০ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। মাসিক হিসেবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে এটি সংকোচনের রেকর্ড। এদিকে দ্বিতীয়বারের মতো করোনার ঢেউ আসতে পারে এমন আশঙ্কায় বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে বড়ো দরপতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সতর্ক করে যে, মার্কিন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। আর এরপরই সূচক কমতে শুরু করে। খবর:বিবিসি ও সিএনএনের।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় (ওএনএস) বলেছে, এই ‘ঐতিহাসিক’ সংকোচন দৃশ্যত সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলেছে। ২০০৮ ও ২০০৯ সালের মন্দার সময় যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি যতটা সংকুচিত হয়েছিল, এপ্রিলের সংকোচন তার চেয়ে তিনগুণ বেশি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এপ্রিলের অবস্থাই সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ হবে, কারণ মে মাস থেকে লকডাউনের বিধি-নিষেধ তুলে নিতে শুরু করেছে সরকার। এদিকে ওএনএস ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসের যে হিসাব দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, আগের তিন মাসের তুলনায় এ সময় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি সংকুচিত হয়েছে।

ওএনএসর পরিসংখ্যানবিদ জোনাথন অ্যাথো বলেন, এপ্রিলে জিডিপির হ্রাস যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। যা গত মাসের চেয়ে তিনগুণ এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতির আগের অবস্থার চেয়ে প্রায় দশগুণ বেশি। তিনি বলেন, অর্থনীতির প্রতিটি খাতেই মারাত্মকভাবে প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা, পাবস, স্বাস্থ্য, গাড়ি বিক্রির মতো খাতগুলো রয়েছে, যা         অর্থনীতির এই সংকোচনে বেশি অবদান রেখেছে।

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, অনেক দেশের মতো করোনা ভাইরাস আমাদের অর্থনীতিতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। তবে স্কিম, অনুদান, ঋণ এবং কর হ্রাসসহ যে লাইফলাইন সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে- তাতে হাজার হাজার ব্যবসায়ী এবং লাখ লাখ চাকরি রক্ষা পেয়েছে। ফলে অর্থনীতি সচল হলে দ্রুত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বড়ো সুযোগ রয়েছে। শ্যাডো চ্যান্সেলর অ্যানেলিজ ডডস বলেন, অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। এই অবস্থার উত্তরণে সরকারকে দ্রুততার সঙ্গে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে দ্বিতীয়বারের মতো করোনা সংক্রমণের বিস্তার দেখা দিলে অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন আশঙ্কায় বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে বড়ো বড়ো কোম্পানির শেয়ারের দর গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পড়েছে। জাপান, হংকং ও চীনের পুঁজিবাজারে গতকাল শুক্রবার দিনের শুরুতেই দর পড়তে শুরু করে। দরপতন ঘটেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারেও। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার, সংস্থা এবং মানুষ প্রথমবারের চেয়ে সংক্রমণের দ্বিতীয় দফা মোকাবিলায় আরো ভালো প্রস্তুত রয়েছে। তবে সমস্যা হলো, সরকারগুলোর অর্থনীতিতে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অন্যদিকে লেবাননে মুদ্রার মূল্য কমে যাওয়ায় গতকাল দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। গত অক্টোবরের পর এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে লেবাননের মুদ্রা। এর প্রতিবাদে শত শত মানুষ সহিংস বিক্ষোভ করেছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।