এনআইডি থেকে ইসি এক বছরে আয় করেছে ৩২ কোটি টাকা

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাইসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে বিগত এক বছরে ৩২ কোটি টাকার বেশি আয় করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ আয়ের পুরোটাই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে কমিশন।

এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেনন, গত এক বছরে এনআইডি যাচাই, এককালীন, নবায়ন, সাব-ইউজার চার্জ ও এনআইডি ফি থেকে ইসির মোট আয় হয়েছে ৩২ কোটি ৪৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৩ টাকা। সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে এনআইডি যাচাই থেকে। এ খাত থেকে মোট আয় হয়েছে ১৯ কোটি ৯৫ লাখ ২৮ হাজার ৪৯২ টাকা। এছাড়া এনআইডি সংশোধন, পুনরোত্তলন বাবদ আয় হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৭ টাকা।

এনআইডি সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অপারেটর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানকে এনআইডি যাচাই সংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংরক্ষিত তথ্য উপাত্ত বিধানমালা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান এনআইডি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে চাইলে প্রথমে এককালীন ৫ লাখ টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হয়। এরপর প্রতিটি তথ্য প্রতিবার যাচাইয়ের জন্য পরিশোধ করতে হয় দুই টাকা।

এনআইডি যাচাইয়ে ইসিকে সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিকাশ। গ্রাহকের পরিচিতি যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিশোধ করেছে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এরপরের অবস্থানে রয়েছে গ্রামীণফোন। এ মোবাইল অপারেটরটি ইসিকে পরিশোধ করেছে ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর বাইরে ৩ কোটি ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ২ কোটি ৯৩ লাখ আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টেলিটক ১ কোটি টাকা। এদিকে ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এনআইডি যাচাই ও অর্থ পরিশোধ করেছে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক। তারা ইসিকে ৬২ লাখ টাকা দিয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ১১ লাখ ২৯ হাজার টাকা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ২৫ হাজার টাকা, র?্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ৭ হাজার টাকা ও এসআইবি এনআইডি যাচাইয়ের বিপরীতে ২৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে ইসিকে।

বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১১ কোটি নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত আছে। এখান থেকে ব্যক্তির পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আর্থিক জালিয়াতি, বয়স জালিয়াতি, ভূমি জালিয়াতিসহ নানা ধরনের অপরাধ কমে গেছে। এছাড়া অপরাধী শনাক্তকরণও আগের চেয়ে সহজ হয়ে গেছে। সহজেই পরিচয় মিলছে বেওয়ারিশ অনেক মরদেহেরও।