করোনা উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু

করোনায় আক্রান্তের সঙ্গে বেড়ে চলেছে কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা। 

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মো. ফেরদৌস আলম চৌধুরী (৬৮) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি উপজেলার পাঠানদন্ডী গ্রামের চৌধুরী বাড়ির মরহুম শামসুল হক চৌধুরীর ছেলে। 

ঝিনাইদহ থেকে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জ¦র, সর্দি কাশিসহ করোনার উপসর্গে  ফয়েজ উদ্দিন (৫০) নামে একজন মারা গেছে। তার বাড়ি উপজেলা কুল্লাপাড়া গ্রামে। তিনি ঢাকাতে একটি ব্যাংকে চাকরি করতেন।  কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামীমা শিরিন জানান, কয়েক দিন আগে করোনার উপসর্গ নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন।  শুক্রবার তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই তিনি রাতে মারা যান।

আরও পড়ুন: মায়ের সামনেই শিশুদের নির্যাতন, নাড়িয়ে দিলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে কমলগঞ্জের সানুর মিয়া (২১) নামের এক যুবক মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চিৎলিয়া বক্সিটিলা গ্রামের ফায়াদ মিয়ার ছেলে।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় বানিয়ারচর গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মী  রিপন বৈদ্য ওরফে নিপু (৪২) করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। শনিবার সকালে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যায়। নিপু বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশনের চিকিৎসা কেন্দ্রের ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসাবে কর্মরত ছিলেন।তার বাড়ি মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় বানিয়ারচর গ্রামে।

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে শনিবার ভোরে করোনা উপসর্গ নিয়ে হাবিবুর রহমান ওরফে সাদেক মাস্টার (৫৮) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব বড়কান্দা মাস্টার বাড়ির মৃত জালাল উদ্দিন মেম্বারের পুত্র।

এলাকাবাসি ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, করোনাকালে তিনি এলাকায় জনসচেতনতা ও সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। ৩ জুন তিনি নিজের মধ্যে করোনা উপসর্গ উপলব্ধি করেন। নিজ বাড়ির একটি ঘরে কোয়ারেন্টিনে থাকেন। ১০ জুন নিকলী উপজেলা করোনা প্রতিরোধ ইউনিট তার নমূনা সংগ্রহ করে।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, শনিবার সকালে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে আইসোলেশনে করোনা উপসর্গ নিয়ে  ভর্তি হওয়া এক আনসার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. পূর্ণজীবন চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন , জ্বর,সর্দি, কাশি ও শ^াস কস্ট নিয়ে শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় এই আনসার সদস্য সদর হাসপাতালে আসলে তাকে করোনা রোগী সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আবাসিক চিকিৎসক জানান, তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনার উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে আব্দুল গাফফার (২০) এবং শনিবার ভোরে সিরাজ উদ্দিন (৫৫) মারা যান। তারা দুজনই নওগাঁর বাসিন্দা। রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। উভয়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শুক্রবার সিরাজ উদ্দিন ও আবদুল গাফফার রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে শুক্রবার ভোরে রামেক হাসপাতালে নওগাঁ এবং রাজশাহীর আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। 

ইত্তেফাক/এসি