যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও ফের লাগামহীন হয়ে উঠছে সংক্রমণ। তবে মৃত্যুর হার কিছুটা কমছে। গত চার দিন ধরে টানা বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। তার আগে প্রতিদিন কিছুট করে হ্রাস পাওয়ায় স্বস্তিতে ছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গত ৮ জুন দেশটিতে সংক্রমণের সংখ্যা ১৯ হাজারের নিচে নেমেছিল। কিন্তু এরপর থেকে এই গ্রাফ উর্ধ্বমুখি। বাড়তে বাড়তে তা আবার ২৩ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে ফের করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। তবে দেশটিতে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা হাজারের নিচে নেমেছে, যা কিছুটা স্বস্তিদায়ক।
দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও অর্থনীতির জন্য পুনরায় সবকিছু খুলে দেয়াতে করোনার ফের পুনরুত্থানের সুযোগের পথ তৈরি হয়েছে বলে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছে। এদিকে বহু অঙ্গরাজ্যের হাসপাতালগুলোতে ক্রমবর্ধমান করোনা রোগী দিয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এলে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, বিধিনিষেধ তুলে নেয়ায় বেশি সংক্রমণ অনিবার্য। সমপ্রতি প্রায় ডজন খানেক রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে বেশি পরিমাণে পরীক্ষা করার কারণকে প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে অনেক রাজ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সেইসঙ্গে হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ’র স্বল্পতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাসে ব্রাজিলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে গেছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ৪১ হাজার ৮২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৫৬৬। মৃত্যু সংখ্যায় যুক্তরাজ্যকে টপকানো ব্রাজিলের উপরে এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্র।
ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশটির আরও ২৫ হাজার ৯৮২ জনের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশটিতে শনাক্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮১০ জনে। বৃহস্পতিবার থেকে ব্রাজিলের সাও পাওলো ও রিও ডি জেনেইরোর শপিং মলগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার বিভিন্ন মলে জনসাধারণের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ফলে সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও আক্রান্তের সংখ্যা উর্ধ্বমূখি বলে জানা গেছে।