বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারালাম :প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর রাজনৈতিক জীবনের পথ ধরে তার মতোই কিংবদন্তি হয়ে উঠেছিলেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি। এম মনসুর আলী যেভাবে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে কাজ করে গেছেন, তার ছেলে মোহাম্মদ নাসিমও তেমনি আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে সামনে থেকে লড়েছেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ব্রেইন স্ট্রোকে শনিবার মৃত্যু হয় মোহাম্মদ নাসিমের। তার মৃত্যুতে শোক বিহ্বল রাজনৈতিক অঙ্গন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গতকাল শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন নির্ভীক যোদ্ধা। তার মৃত্যু বাংলাদেশর জাতীয় রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মোহাম্মদ নাসিমের নাম চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতির পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মোহাম্মদ নাসিম তার পিতার মতোই দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন দেশপ্রেমিক ও জনমানুষের নেতাকে হারাল। আমি হারালাম একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, করোনা ভাইরাসের সংকটেও সে সমস্ত কাজে যুক্ত ছিল বলেই অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। নাসিমের মৃত্যু মেনে নেওয়া আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। এক শোকবার্তায় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, তার মৃত্যুতে জাতি আজ সত্যিকারের নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ হারাল, যা সহজে পূরণ হবার নয়।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, সে ছিল জাতীয় নেতা, তার একটা বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ছিল। সে সংগ্রামী নেতা ছিল, জেল-জুলুম-অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেও সংগঠনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিল। আমি মর্মাহত, বেদনাহত যে, নাসিম এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, অনেকেই ঝামেলাহীন জীবন-যাপন করেছে, কিন্তু নাসিম সেটা করেনি। এখানে নানা মত, নানা পথের লোকজন আছে। সবাইকে এক জায়গায় করা, এটাতে নাসিমের অবদান ছিল অসীম, যা সে করে গেছে সফলতার সঙ্গে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ একজন সত্, ত্যাগী, নিষ্ঠাবান, অনুসরণযোগ্য এক অকৃত্রিম সুহূদকে হারাল।

জেপির শোক :মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম। গতকাল এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, মোহাম্মদ নাসিম এমপি ছিলেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক এবং একজন দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা ও সক্ষমতা অর্জন করেছিলেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে জাতি একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদকে হারাল। আমরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।

এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস প্রমুখ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন যে ১৪ দলের মুখপাত্র ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম, সেই জোট এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এদেশের মুক্তিযুদ্ধে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এবং বিশেষ করে ১৪ দলের সংগ্রাম-আন্দোলনে মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন একজন অকুতোভয় যোদ্ধা। ১/১১ সেনাশাসনে জেলখানায় তার ওপর নিপীড়নের ফলে তাকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে হয়েছিল। তারই পরিণতিতে আবারও স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। এই দুঃখ আমাদের রাখার জায়গা নেই।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মোহাম্মদ নাসিমের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন জেএসডির আ স ম আবদুর রব, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের রেজা কিবরিয়া, বিকল্পধারার নুরুল আমিন ব্যাপারী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা শোক প্রকাশ করে বলেন, করোনাকালে এই প্রয়োজনের সময় তার মৃত্যু চরম আঘাত হিসেবে এসেছে। জাতি নাসিমকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণে রাখবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এক শোকবার্তায় বলেন, মোহাম্মদ নাসিম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তির বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা ও রক্ষার জন্য সর্বদা আন্তরিক ও সচেষ্ট ছিলেন। তার মৃত্যুতে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অপরিসীম ক্ষতি ও শূন্যতা সৃষ্টি করবে।

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান, বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এক শোক বার্তায় বলেন, অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করে সাধারণ মানুষের অন্তর জয় করতে পেরেছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। দেশ এক পরীক্ষিত রাজনৈতিক অভিভাবককে হারাল।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এক শোকবার্তায় বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তার অবদানকে আমি সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করছি। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, তার মৃত্যু শোক ও দুঃখের বিষয়। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, জাতি জনগণের একজন সত্যিকারের বন্ধু রাজনৈতিক নেতাকে হারিয়েছে।

এছাড়া বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, সংসদে বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা প্রমুখ। এছাড়া শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ।

বরিশাল অফিস জানায়, পৃথক শোকবার্তায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বরিশাল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান প্রমুখ শোক জানিয়েছেন।

এছাড়া আরো শোক জানিয়েছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ডা. এস এ মালেক, এইচ টি ইমাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, কর্নেল (অব) মুহম্মদ ফারুক খান, বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, ইসলামিক গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের রেজা কিবরিয়া, ঐক্য ন্যাপের পংকজ ভট্টাচার্য, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়?ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।