বাজেট প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গেই মূল্য বৃদ্ধি

গত বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই মোবাইল ফোনে কথা বলা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর বাড়তি কর আরোপের প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। একইভাবে তামাকজাত পণ্যের ওপরও ঐদিন থেকেই কার্যকর হয়ে গেছে। অতীতের বাজেটেও একইভাবে টাকা কেটে নেওয়া হতো। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, বর্ধিত করের বিষয়টি অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব। এটি পাশ হবে ৩০ জুন। ঐদিন কিছু সংশোধনও আসতে পারে। নানা আলোচনার পর প্রস্তাবিত এ সম্পূরক শুল্ক কমতেও পারে। তাহলে বাজেট ঘোষণার দিন থেকে পরবর্তী অর্থবছর শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত কর্তিত টাকা সাধারণ মানুষকে ফেরত দেওয়ার উপায় কী? রাকিবুল হাসান নামে এক জন জানালেন, এর আগে এ ধরনের কর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার পর বাজেট পাশের সময় কমানো হয়েছিল। কিন্তু আগেই কেটে নেওয়া ঐ অর্থ তিনি আর ফেরত পাননি। জানা গেছে, এ ধরনের টাকা আর সাধারণ মানুষের পকেটে ফেরত আসেনি। তাহলে এই টাকা কোথায় যায়? কোম্পানিগুলোর কাছে, এনবিআরের কাছে—নাকি অন্য কোথাও? এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে, রয়েছে প্রশ্নও।

অবশ্য এনবিআরের এক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাজেট পাশের সময় প্রস্তাবিত কর কমানো হলেও মাঝের ঐ সময়ে কর্তিত অর্থ এনবিআরই পায়। প্রভিশনাল কালেশন অব ট্যাক্সেস অ্যাক্ট নামে একটি আইনের বলে ভ্যাট ও শুল্ক খাতে অগ্রিম আদায়কৃত অর্থ এনবিআরই নিয়ে নেয়। এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু জনগণকে খুঁজে খুঁজে ঐ টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আদায়কারী প্রতিষ্ঠান তা এনবিআরের কাছে জমা দেয়। বাজেট প্রস্তাবের দিন থেকেই কার্যকর না করলে এসব ক্ষেত্রে বিশাল অনিয়মের আশঙ্কা থেকে যায়। যদি বাজেট পাশ পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হতো, সেক্ষেত্রে যেসব পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে, তা অসত্ ব্যবসায়ীরা বাজেট কার্যকরের আগেই মজুত করে নিতো। এর পর তারা ভোক্তার কাছ থেকে বর্ধিত দাম নিলেও সরকার রাজস্ব হারাতো। অবশ্য শুল্ক কমানোর প্রস্তাবও একইভাবে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের দিন থেকেই কার্যকর হয়।

জানা গেছে, বহু আগে থেকেই এ প্রক্রিয়ায় ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্ধিত কর প্রস্তাবের দিন থেকেই আদায় করে থাকে। সাধারণ মানুষের এ ধরনের কোন টাকা ফেরত পাওয়ার নজির নেই। কেবল বহু আগে একবার সরকারি কিছু প্রকল্পের এ ধরনের শুল্ক সমন্বয় করা হয়েছিল বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

অবশ্য সাধারণ মানুষ বলছেন, তামাকজাতীয় পণ্যের ক্রেতাকে হয়তো জনে জনে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। কিন্তু মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীসহ কিছু ব্যবসা আছে, যা বিদ্যমান প্রযুক্তির মাধ্যমে খুঁজে বের করা সম্ভব। এমন ক্ষেত্রে আগে কেটে নেওয়া বর্ধিত কর ফেরত দেওয়ার একটি ব্যবস্থা বের করার উচিত। এদিকে যে পণ্যে কর আরোপ করা হয়নি, সে পণ্যেরও দাম বেড়ে যায়। বাজেট এলেই কর হ্রাস-বৃদ্ধি যাই হোক না কেনো, দাম বাড়ানো একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভোক্তারা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দাবি করেন ভোক্তারা।