বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সিলেটে গুপ্তহত্যা, ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আতঙ্ক। এরই মধ্যে নগরীরতে মাস্ক পরে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনার পর গত সপ্তাহে দুই দিনে দুটি গুপ্ত হত্যার ঘটনা ঘটেছে। করেনাকালে চারদিকে নির্জনতা, রাস্তাঘাটও ফাঁকা। তাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ঘাতকরা নীরবে লাশ সড়কে ফেলে কেটে পড়ছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সিলেটের সড়কে দুটি বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অবশ্য ঘটনার পর অজ্ঞাত দুটি লাশের পরিচয় বেরিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে আবুল কালাম (৫০) নামের একজন পাথর ব্যবসায়ী, অপরজন আইনজীবীর সহকারী শামীম (৩৮)।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছে, শামীম এক দম্পতির হাতে খুন হন। আর ব্যবসায়ী কালাম খুন হন পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে। তবে কারা কালামকে খুন করেছে সেই ক্লু এখনো বের করতে পারেনি পুলিশ।
শামীম হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে র্যাব-৯ জানিয়েছে, অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে কেন্দ্র করে সে খুন হয়েছে এক দম্পতির হাতে। শুক্রবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোররাতে র্যাবের একটি দল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মৌসুমী বেগম (২৩) ও তার স্বামী রুহুল আমিনকে (৩৫) গ্রেফতার করে। তবে এই খুনের সঙ্গে জড়িত অপর সহযোগী শাহেদ পলাতক রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার এলাকার শিববাড়ী বাজারের ষাটঘর নামক এলাকা থেকে বস্তাবন্দি একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার গণমাধ্যমে লাশের ছবি দেখে পরিবারের লোকজন তাকে শনাক্ত করেন। নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, মোগলাবাজার এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে পাথর সরবরাহ করে আসছিলেন। বুধবার তিনি বকেয়া টাকার জন্য ওই ব্যবসায়ীর উদ্দেশ্যে মোগলাবাজার যান। এরপর আর তিনি বাড়িতে ফেরেননি। মোগলাবাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, লাশের শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে নিহতের কারণ বোঝা যাবে।
সিলেট মেট্রোপলিটান পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেন, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। পুলিশ তত্পর রয়েছে। সিলেটে ছিনতাই কাজে ব্যবহূত মোটরসাইকেল ও অস্ত্রসহ দুই জন ধরা পড়েছে।