যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার বিচার দাবিতে দেশ জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। হোয়াইট হাউজের বাইরে বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিকটবর্তী সেন্ট জন’স গির্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরদিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হেঁটে ক্ষতিগ্রস্ত গির্জায় যান। সেখানে বাইবেল হাতে ছবি তোলেন। এর আগে প্রেসিডেন্টের জন্য পথ উন্মুক্ত করতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় নিরাপত্তা বাহিনী। সেদিন গির্জা যাওয়ার সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অন্যদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাও। সেনা পোশাক পরে ট্রাম্পের সঙ্গে গিয়ে ছবি তোলায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। খবর : সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান মার্ক মিলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যাওয়াটা ভুল ছিল। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে একটি ধারণা জন্মেছে যে, সেনাবাহিনী অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে গির্জায় গিয়ে ছবি তোলার জন্য আমি দুঃখিত। এই ছবি তোলার জন্য মার্কিন আইন প্রণেতা ও সাবেক জেনারেলদের সমালোচনার মুখে পড়েন মার্ক মিলি। ভুল স্বীকার করে জেনারেল মার্ক মিলি বলেন, আমার অবশ্যই সেখানে থাকা উচিত হয়নি। এর ফলে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা জন্ম হচ্ছে। তিনি বলেন, জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার ঘটনায় তিনি ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ। এ ঘটনায় যে বিক্ষোভ হয়েছে তা আফ্রিকান আমেরিকানদের ওপর অবিচারের বহিঃপ্রকাশ। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি ট্রাম্প। অথচ প্রতিটি বিষয়ে টুইটারে কিংবা সংবাদ সম্মেলনে হৈ চৈ ফেলে দিতে প্রেসিডেন্ট সিদ্ধহস্ত!
প্রসঙ্গত, অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের গির্জায় গিয়ে ছবি তোলায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির ধর্মীয় নেতাদের অনেকে। এছাড়া ঐ দিন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধা ও পুলিশের আগ্রাসী ভূমিকার জন্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কিছু বিক্ষোভকারী ও মানবাধিকার সংগঠন দ্য আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন (এসিএলইউ) ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার হরণের এই মামলা করেছে।