করোনাকালে নতুন-পুরাতন সব ব্যবসায়ীই বিপাকে পড়েছেন। নতুন করে ব্যবসা প্রসার করতে পারছেন না তারা। তাদের সবারই মূলধন সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে আগামী বছরের বাজেটে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ করার কথা বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা আছে কি-না সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘ব্যাংকে তারল্য যে অবস্থায় আছে তাতে ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হবে না। যদি সমস্যা হয় তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।’
গতকাল প্রধানমন্ত্রী অফিসের অধীন উদ্যোক্তা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, প্রকল্পের পরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানের পরিচালনায় নরসিংদী, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর ও মৌলভীবাজার জেলার প্রশাসক, ৬৪ জেলার প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক প্রমুখ যুক্ত হন।
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলো যদি সমস্যায় পড়ে তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতা করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য সমস্যা নেই। প্রশ্ন উঠছে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার যদি ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেয় তাহলে বেসরকারি খাত বেশি ঋণ পাবে না। এক্ষেত্রে বাজেট খুব ফ্লেক্সিবল বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।’ উপদেষ্টা বলেন, ‘যে ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল রয়েছে সেটা ব্যবহার করা হবে।’ নতুন উদ্যোক্তাদের প্রতি সালমান এফ রহমান বলেন, ‘উদ্যোক্তা বা সফল ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও ভাগ্যের বিষয় আছে। অনেকে খুব সহজে (শর্টকাট) সফল হতে চায়। সফল হওয়ার শর্টকাট কোনো পথ নেই।’
নতুন উদ্যোক্তারা প্রথম দিকে মূলধনের সমস্যায় থাকেন। এ সমস্যার সমাধানের জন্য জার্মানির পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানে, বড়ো বড়ো কোম্পানিগুলো ছোটো কোম্পানিকে সহায়তা করে। বড়ো কোম্পানিগুলো কখনো এককভাবে আবার কখনো কয়েকটি কোম্পানি মিলে সেটা করে থাকে। বাংলাদেশেও এমন উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে ছোটো কোম্পানিগুলোকে ক্যাপিটাল ভেঞ্চারের মতো ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’ এছাড়া তাদের গ্যারান্টার হিসেবে ব্যাংলাদেশ ব্যাংকও এগিয়ে আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন।