ফুলবাড়ীতে ধরলায় হঠাত্ পানি বৃদ্ধিতে ভাঙনের ফলে আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রা। এরই মধ্যে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সোনাইকাজী, ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের প্রাণকৃষ্ণ ও বড়ভিটা ইউনিয়নের চর-ধনীরাম গ্রামের ধরলা পাড়ের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে। রবিবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করতে গেলে ধরলা পাড়ের বাসিন্দারা ভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সোনাইকাজী গ্রামের অধিবাসী বেলাল হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩৮), তছর উদ্দিন (৭২), মোসলেম উদ্দিন (৪০), সেকেন্দার আলী (৩৮) এবং ইয়াছিন আলী (৪২) জানান, গত চার-পাঁচ বছরে অন্তত সাত থেকে আট বার ধরলা নদী তীব্র ভাঙনে তাদের বাড়ি-ঘর কেড়ে নিয়েছে। এরই মধ্যে ধরলার পানি বৃদ্ধি ও ভাঙন দেখা দেওয়ায় বড়ো দুশ্চিন্তায় আছি।
বড়ভিটা ইউনিয়নের ধনীরাম গ্রামের মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী অনোয়ারা বেগম, দুলাল মিয়া, রশিদুল ইসলাম ও ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের প্রাণকৃষ্ণ গ্রামের সৈয়ত আলী, তাজুল ইসলাম এবং আব্দুল বারী ও সামাদ আলী জানান, ‘গত আট থেকে দশ বছরে বাড়ি-ঘর, জমা-জমি ধরলার পেটে গেইছে। এবারও যদি ধরলায় সর্বত্র হারিয়ে যায় কোথায় যেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠাঁই নিব বাঁহে। আমরা সাহায্য-সহযোগিতা চাই না, আমরা চাই ধরলায় একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হোক।’
ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর-রশিদ ও বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খয়বর আলী জানান, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ধরলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ধরলা নদীর দুই তীরবর্তী মানুষ হুমকির মুখে আছে। প্রতি বছরই ধরলার তীব্র ভাঙনে তীরবর্তী মানুষের ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যায়। এ বছরও ধরলার তীরবর্তী মানুষ ভাঙনের আশঙ্কা করছে। দ্রুত নদী ভাঙন রোধকল্পে বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করলে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের তীরবর্তী মানুষ রক্ষা পাবে।