প্রস্তাবিত বাজেট বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়

প্রস্তাবিত বাজেট বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথেস্ট নয় বলে উল্লেখ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। বাজেট অন্যান্যবারের মতো গতানুগতিক ধারাতেই প্রণয়ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে সেটি প্রশংসনীয়, তবে যথেষ্ট নয়। শনিবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে প্রস্তাবিত বাজেটের পর্যালোচনা তুলে ধরা হয় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ হতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের নেতৃত্বে সানেম প্যানেলে আরো ছিলেন সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা, সানেমের গবেষণা ফেলো মাহতাব উদ্দিন ও সানেমের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ইশরাত শারমীন। সূচনা বক্তব্যে ড. সেলিম রায়হান বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দকৃত বাজেটের সঠিক ব্যবহারের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও সক্ষমতার অভাব নিয়ে আলোচনা করা দরকার ছিল। তিনি বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে নতুন করে যারা দরিদ্র্য হয়েছেন তাদের জন্য বাজেটে বিশেষ কিছু নেই। এ ক্ষেত্রে আরো বিস্তৃতভাবে নগদ ও খাদ্য সহায়তা, বেকার ভাতা, ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেত। কালোটাকা সাদা করার সুযোগ অতীতেও কোনো সুফল বয়ে আনে নি, বরং সত্ লোকদের নিরুত্সাহিত করেছে। বাজেটে পোশাক শিল্পকে যে পরিমাণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অন্য রপ্তানি শিল্পকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় নি। ব্যাংকিং সেক্টরের মাধ্যমে বাজেট ও প্রণোদনা প্যাকেজ উভয়েরই আংশিক অর্থায়ন করা হচ্ছে—কিন্তু, ব্যাংকিং সেক্টরের যে সংকটগুলো আছে, সেটির মধ্য থেকে এটি সম্ভব কি না সেটি একটি প্রশ্ন। বাজেটে এ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা থাকা দরকার ছিল। রাজস্ব আদায়ের যে টার্গেট ধরা হয়েছে সেটি অবাস্তব। তবে রাজস্ব আদায়ের জন্য স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ মোকাবিলা করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থায়ন কর্তন করতে হবে। তাছাড়া ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব।