সিলেট বিভাগে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই

সিলেট বিভাগে করোনার প্রাদুর্ভাব এখনো ঊর্ধ্বমুখি। প্রতিদিন বেড়েই চলেছে আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা। স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানান, সংক্রমণের মাত্রা কমাতে হলে এই মুহূর্তে মানুষের সচেতনতার বিকল্প নেই। কিন্তু মানুষ হাটেবাজারে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে এই বিভাগের সিলেট জেলার অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। অবশ্য সিটি করপোরেশন প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। গত ঈদে দোকানপাট খোলার পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রম অবনতির দিকে। অন্য দিকে সিলেটের দুটি পরীক্ষাগারে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এমন পরিস্থিতিতে সিলেট মহানগরীতে আরো কয়েকটি এবং সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে পরীক্ষাগার খোলা জরুরি বলে ভুক্তভোগীদের অভিমত। নতুবা সংকট  আরো ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সকলের ধারণা।

এদিকে কেউ উপসর্গ নিয়ে আবার কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। রবিবার দুপুরে  করোনা উপসর্গ নিয়ে লিটন দাস লিকন নামের এক সাংবাদিক মারা গেছেন। তিনি বালাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দুই জনের মৃত্যুসহ সিলেট বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। শুধু সিলেট জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, শনিবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৪৩ জন।

সিলেটে প্লাজমা থেরাপি শুরু

এদিকে সিলেটে প্রথমবারের মতো বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট এডোরায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে করোনা রোগীদের জন্য প্লাজমা থেরাপি কার্যক্রম। শনিবার প্রথমবারের মতো তাদের কাছ থেকে রক্তের প্লাজমা সংগ্রহ করে স্থানীয় অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতাল। নগরীর আখালিয়াস্থ মাউন্ট এডোরা হসপিটালের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগে করোনাজয়ী একজনের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। পরে তা প্রয়োগ করা হয় নর্থ ইস্ট হাসপাতালে চিকিত্সাধীন এক করোনা রোগীর শরীরে। গতকাল রবিবারও একজন দাতার দেওয়া প্লাজমা নিয়ে যায় নর্থ ইস্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রবিবার দুপুরে বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মাউন্ট এডোরা হসপিটালের মার্কেটিং এডভাইজার মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। রাশেদুল বলেন, এখন থেকে প্লাজমা থেরাপির জন্য আর কাউকে ঢাকা কিংবা অন্যত্র যেতে হবে না।  মাউন্ট এডোরা হসপিটাল এই সেবাটি দিতে সক্ষম।