লকডাউনের কারণে তরুণদের মানসিক ক্ষতি সুদূরপ্রসারী

করোনা ভাইরাসের কারণে পৃথিবীর অনেক দেশেই চলছে লকডাউন পরিস্থিতি। কোনো কোনো দেশে এই লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হলেও স্বাভাবিক জীবনধারা আগের মতো হয়নি। স্বাভাবিক জীবন কাটাতে না পারায় চরম মানসিক সমস্যায় রয়েছে মানুষ। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরো মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের একদল গবেষক সতর্ক বলে বলেছেন, দীর্ঘদিন লকডাউন পরিস্থিতিতে থাকার কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বৃদ্ধি পাবে তীব্র মানসিক সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু, কিশোর এবং তরুণ প্রজন্মের মানসিক বিকাশের জন্য মুখোমুখি সামাজিক মিথস্ক্রিয়া খুবই জরুরি। কিন্তু লকডাউনের কারণে মানুষ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছে। আর এই বিচ্ছিন্নতাই হয়তো তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যত্ জীবনে ভয়াবহ মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দেখা দেবে।

গবেষকরা বলেন, ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের   মস্তিস্কের বিকাশ এবং বোধশক্তি তৈরির জন্য সামনা-সামনি মেলামেশার মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু লকডাউনের কারণে পরস্পরের মুখোমুখি যোগাযোগ কমে যাওয়ায় তরুণদের পরবর্তী জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য, আচরণগত সমস্যা এবং বুদ্ধির বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষ আবদ্ধ থাকতে অভ্যস্ত নয়। তাই দীর্ঘদিন লকডাউনের মধ্যে গৃহবন্দি থাকায় বিষণ্নতা দেখা দিচ্ছে। অনেকেই রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। কেউ কেউ আবার হেলুসিনেশনে ভুগছে। উলটা পালটা চিন্তা তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের নিউরোসাইন্টিস্ট তরুণদের ভবিষ্যত্ রক্ষার জন্য স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, লকডাউনের কারণে ইতিমধ্যেই তাদের অনেকটা সময় একাকিত্ব সইতে হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হয়তো আরো অনেক দিন প্রলম্বিত হবে। ততদিন যদি তাদের এভাবে গৃহবন্দি করে রাখা হয় তাহলে তা তাদের সুদূরপ্রসারী ক্ষতির কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হবে। তবে এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তরুণদের কিছুটা হলেও সাহায্য করেছে। সামনা সামনি যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও এই সময়ে ভার্চুয়াল জগতে অনেকেই বন্ধু-বান্ধবের কাছাকাছি থাকতে পেরেছে।

আপাতত দেশটিতে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরেছে। কিন্তু মার্চের ২৩ থেকে স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘরেই রয়েছে তরুণরা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই লকডাউন পরিস্থিতিতে ২৫ বয়সের কম বয়সি এসব তরুণদের অর্ধেকের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গবেষণা দলের প্রধান এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সারা-জেন ব্ল্যাকমোর বলেন, তরুণরা সাধারণত তাদের পরিবারের সদস্যদের তুলনায় বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত থাকে এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর এই সময়টাতেই যেহেতু তারা তাদের সেই কাছের বন্ধু-বান্ধব থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে ফলে তা তাদের মানসিক অবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে; এখনই কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হতে পারে।-ডেইলি মেইল