ঢাবি সিনেটের বার্ষিক অধিবেশন শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশনে সভাপতির চেয়ারে বসে আছেন উপাচার্য। এটি চিরাচরিত দৃশ্য। কিন্তু উপাচার্যের দুই পাশে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের জন্য নির্ধারিত তিনটি চেয়ার ছিল শূন্য। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতিও উপস্থিত ছিলেন না অধিবেশনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন সিনেট অধিবেশন কখনো হয়নি বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক। গতকাল বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ অধিবেশন শুরু হয়। চলে বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত। পছন্দের তিন জনকে সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনীত করতে এমন অধিবেশন আহ্বান করা হয় বলে জানান বেশ কয়েকজন শিক্ষক।

দীর্ঘ পৌনে দুই ঘণ্টার আলোচনায় সিনেট সদস্য নির্বাচন, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়নের জন্য কমিটিও গঠন, সান্ধ্যকালীন কর্মসূচির নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন, দেশে চলমান সংকট নিরসনের জন্য গঠিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে পাঁচ বছরমেয়াদি ‘স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সিনেট অধিবেশনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বাজেট উপস্থাপনই ছিল না এ অধিবেশনে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সহসভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি আগামী ডাকসু নির্বাচন, অছাত্রদের হলে অবস্থানের বিষয়ে প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সভায় ছাত্র প্রতিনিধি ও ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান, চলতি বছরের জন্য উন্নয়ন ফি বাতিল, সেশনজট নিরসনের প্রস্তাব, ডাকসু একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি বেদখল হওয়া জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন সিনেটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন হয় জুনের ২৮ তারিখের পর। অধিবেশনের অন্যতম আলোচ্যসূচি থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেট উত্থাপন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয় সিনেট অধিবেশনে। কিন্তু এ অধিবেশনে বাজেটের বিষয়টি একবারে উপেক্ষিত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সামাদ বলেন, আমরা সহকর্মী হিসেবে উপাচার্য মহোদয় আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি আমাদের জানাননি পর্যন্ত। 

পছন্দের লোকরাই সিন্ডিকেট সদস্য

অভিযোগ রয়েছে, নিজের পছন্দের তিন জনকে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত করতে তড়িঘড়ি করে সিনেট অধিবেশন আহ্বান করেন উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, সিনেটের ৩৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হবে ১৬ জুন। তাই ১৬ তারিখের পর সভা ডাকলে উপাচার্য তার পছন্দের কয়েকজন ব্যক্তিকে সিনেট থেকে সিন্ডিকেটে মনোনয়ন দিতে পারবেন না। পছন্দের তিন জনই সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বলে জানায় সূত্রটি।   

উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে অধিবেশন, উপস্থিতি কম

এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের গতি যখন বাড়ছে তখনই অধিবেশন ডাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিক্ষকরা। এর প্রভাব পড়েছে সিনেট অধিবেশনে। অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না অর্ধেকেরও বেশি সিনেট সদস্য।