করোনা ভাইরাসে মহামারিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি ভারতে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে অনেকেই স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনের পথ বেঁচে নিয়েছেন। এবার করোনার ভয়ে হাতি দেখার ওয়াচ টাওয়ারে কোয়ারেন্টাইন বেঁচে নিয়েছেন ভারতের জলপাইগুড়ির দুই ভাই।
এনডিটিভি জানায়, হোটেল ম্যানেজমেন্টের ডিগ্রিধারী অমর রাই আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে কাজ করতেন। লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন রাজ্যে কর্মরত মানুষেরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হাতি দেখার উঁচু টাওয়ারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।
খবরে বলা হয়, দাদাকে ফেরাতে শিলিগুড়িতে যান ভাই জিওয়ান। সেখান থেকে নিজেদের গ্রাম মালিভিটাতে ফেরার পরেই দুই ভাইকে করোনা সতর্কতায় ১৪ দিনের জন্যে কোয়ারান্টাইনে থাকার কথা বলেন গ্রামের বাসিন্দারা। শেষ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে থাকতে গ্রামের বাইরের ওই এলিফ্যান্ট ওয়াচটাওয়ারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অমর রাই বলেন, আমাদের পরিবারের সদস্য এবং গ্রামের লোকজনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গ্রামের বাইরে থাকা এই ওয়াচ টাওয়ারটিতেই দুইসপ্তাহের জন্যে কোয়ারেন্টাইনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটাই এখন আমাদের বাড়ি।
তিনি আরও জানান যে, লকডাউনের জারি হওয়ার পরেই তিনি দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ পর্যটকদের অভাবে হোটেলে কোনও কাজ ছিল না।
অমর বাহাদুর রাইয়ের এক আত্মীয় অভিযোগ করেছেন যে গ্রাম পঞ্চায়েতকে তার গ্রামে ফিরে আসার খবর আগে থেকেই দেওয়া হলেও প্রশাসন কোনও কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যবস্থাই করেনি। তাই বাধ্য হয়েই গত ১০ জুন থেকে ওই দুই ভাইকে ওয়াচ টাওয়ারের মাত্র ৮ বর্গফুট জায়গায় থাকতে হচ্ছে।
এদিকে বেলাকোবা ফরেস্টের রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত বলেছেন, ওয়াচ টাওয়ারটি আসলে হাতির দলের চলাচলের দিকে নজর রাখা এবং আশেপাশের গ্রামগুলিতে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্যে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এখন আর সেটিকে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, যেহেতু ওয়াচ টাওয়ারটি কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই আমরা সমস্যায় পড়েছি। কিন্তু মানবিক কারণে আমরা ওই দুইজনকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবিনি।
রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত আরও জানিয়েছেন যে, স্থানীয় প্রশাসনকে ওই দুই ভাইকে অন্য কোথাও কোয়ারেন্টাইন করে রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আই কান্ট ব্রিথ: কানাডায় বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত
এদিকে পঞ্চায়েত প্রধান রঞ্জিতা রায় দাবি করে বলেন, যদিও ওই পরিবার জানিয়েছিল যে অমর রাই আন্দামান থেকে ফিরে আসবেন, তবে তার ফিরে আসার পরে আর কিছুই জানানো হয়নি তাদের।
ইত্তেফাক/আরআই