করোনা হটলাইন

কোটির বেশি কল এলেও পরীক্ষা হয়েছে ৫ লাখ :টিআইবি

জাতীয় কল সেন্টার ও আইইডিসিআরের নির্ধারিত হটলাইনে করোনাবিষয়ক সেবার জন্য গত ১৪ জুন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ফোনকল এলেও করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে মাত্র ৫ লাখ। অর্থাত্, ফোনকল আসার তুলনায় পরীক্ষার সংখ্যা খুবই সামান্য। টিআইবির পক্ষ থেকে বলা হয়, চিকিত্সাব্যবস্থা উন্নত দেশের সমতুল্য দাবি করা হলেও পরীক্ষার হারের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং বিশ্বে ১৪৯তম।

গতকাল সোমবার করোনা সংক্রমণের ১০০তম দিনে ‘করোনা ভাইরাসের সংকট মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গবেষণাটি করেছেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন, মোরশেদা আকতার, প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আকতার ও মনজুর-ই খোদা। প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণায় উঠে এসেছে, গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত দেশে একটি ল্যাবে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা হয়েছে। হটলাইনসহ নির্ধারিত নম্বরগুলোতে ৬৩৯টি ফোনকলের বিপরীতে পরীক্ষা করা হয়েছে একটি। সর্বশেষ গত ১ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ৬০টি ল্যাবে পরীক্ষা হচ্ছে। সময় বিবেচনায় পরীক্ষার সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেছে টিআইবি।

টেকনোলজিস্টের সংকট, মেশিন নষ্ট থাকা, জনবল ও মেশিনে সংক্রমিত হওয়া এবং সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে মেশিনের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গবেষণায় বলা হয়, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৬০টি ল্যাবে ৮৫টির মতো পিসিআর মেশিন দিয়ে প্রায় ২৪ হাজার নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা থাকলেও সর্বশেষ ১৪ দিনে গড়ে ১৩ হাজার ৬০০ নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট সংকটের কারণে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে নমুনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং ভুল প্রতিবেদন আসছে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়। গবেষণায় বলা হয়, করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ ও প্রতিবেদন দিতে কখনো কখনো ৮-১০ দিন পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে।