বজ্রপাত থেকে রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘কৃষকের ছাউনি’

চারিদিকে ফসলের মাঠ, মাঝখানে গোলাকার ঘর, ঘরটিতে খড়ের ছাউনি। কিন্তু বেড়া নেই। আছে বসার জন্য বাঁশের বেঞ্চ। পাশে রয়েছে কয়েকটি গাছ। নাম দেওয়া হয়েছে ‘কৃষকের ছাউনি’। সামনে টানানো কৃষকের ছাউনির বিলবোর্ড। বজ্রপাত থেকে রক্ষায় তৈরি করা হয়েছে এ ধরনের ঘর। শিবরাম গ্রামে ব্যতিক্রমী এই ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ।

উপজেলার শিবরাম গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, আগে বৃষ্টির সময় আমরা মাঠে ভয় নিয়ে কাজ করেছি। এখন নির্ভয়ে কাজ করছি। আগে আকাশ ডাকলে কোথায় যাওয়ার উপায় ছিল না। এখন আকাশ ডাকলেই আমরা ঐ ঘরের নিচে আশ্রয় নিচ্ছি। একই গ্রামের কৃষক হজরত আলী বলেন, গত বছরের জুন মাসে আমাদের গ্রামে বজ্রপাতে এক জন কৃষক মারা যান। তখন থেকে আমরা ভয় নিয়ে মাঠে কাজ করছিলাম। এবার অনেকবার বজ্রপাত হয়েছে। কিন্তু কোনো ক্ষতি হয়নি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ বলেন, পত্রিকা খুললেই দেখা যায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হয়। গত ছয় মাসে এই উপজেলায় বজ্রপাতে চার জন কৃষক মারা গেছেন। তাই কৃষকদের জন্য ভালো কিছু করার আগ্রহ থেকে এই কৃষক-ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকরা সাধারণত সারাদিন মাঠে কাজ করেন। দুপুরে বাড়ি যাওয়ার সময় পান না। তাই রোদে কিংবা বৃষ্টির সময় ছাউনিতে বসে খেতেও পারবেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে দুটি করে কৃষক-ছাউনি নির্মাণ করা হবে। সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, শিবরাম গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক-ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কৃষকরা উপকৃত হলে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষক-ছাউনি নির্মাণে সহায়তা করা হবে।