ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। কোথাও কোথাও এখনো সড়ক ভাঙিয়া প্রবাহিত হইতেছে জোয়ারের পানি। কোনো কোনো সড়ক ওয়াশ-আউট হইয়া গিয়াছে। ইহাতে চরম দুর্ভোগে পড়িয়াছে এই অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করিয়া সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর, খুলনার কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপ, বাগেরহাটের মোংলা, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ এবং পটুয়াখালী ও ভোলার উপকূলবর্তী অঞ্চলের সড়ক-অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। ক্ষতিগ্রস্ত এই সকল সড়ক অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাইয়াছেন এই অঞ্চলের মানুষ। এই ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ লইতে হইবে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) স্থানীয় কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামোর তালিকা প্রণয়নে সহযোগিতা প্রদান করিতে হইবে। যেই সকল সড়ক ও রাস্তাঘাট এখনো জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত, সেই সকল সড়কসংলগ্ন বাঁধ যথাসময়ে মেরামত করিতে না পারিলে তাহা সহসা সংস্কার করা যাইবে না। এই জন্য সওজ অধিদপ্তর, এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সম্মিলিত ও সমন্বিত উদ্যোগ অত্যাবশ্যক।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের হিসাব মতে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই সকল জেলায় তাহাদের অধীন ৭০ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। তাহাদের হিসাবে চার জেলার ২৩টি সড়কের অবস্থা শোচনীয়। সবচাইতে অধিকসংখ্যক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে সাতক্ষীরা জেলায়। শুধু সড়ক নহে, বিভিন্ন সেতু ও কালভার্টের অবস্থাও সঙ্গিন। এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) বলিতেছে, তাহাদের অধীন বিপুল পরিমাণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে। শুধু খুলনা জেলাতেই সংস্থাটির ২৭২ কিলোমিটার সড়ক ও ২০০-এর অধিক সেতু-কালভার্ট ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা ১৩৮। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। অন্য জেলাগুলোতেও একইভাবে ক্ষতির শিকার হইয়াছে প্রচুর সড়ক, সেতু ও কালভার্ট। ইতোমধ্যে স্থানীয় সড়ক বিভাগ সড়কগুলি মেরামতের জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাহিয়া সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাইয়াছে; কিন্তু এই বরাদ্দ পাইতে কত দিন ও কত মাস সময় লাগিবে তাহা কেহ জানেন না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতায় অনেক সময় জনগণের নাভিশ্বাস উঠে—ইহা আজ আমাদের আর অজানা নহে।
সড়কগুলি যথাসম্ভব দ্রুত সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই নিরন্তর চেষ্টা চালাইয়া যাইতে হইবে। তবে এখানে জনগণের ধৈর্য ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এমন এক সময়ে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আসিয়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক অবকাঠামো ধ্বংস করিয়াছে, যখন শুধু সারাদেশের নহে, সারা পৃথিবীর মানুষ করোনা নামক এক বৈশ্বিক মহামারিতে আক্রান্ত হইয়া চরম বিপাকে পড়িয়াছেন। উন্নত দেশের সরকারগুলিও ইহার মোকাবিলায় হিমশিম খাইতেছে। এমতাবস্থায় জনসাধারণকে যেমন ধৈর্য ধারণ করিতে হইবে, তেমনি সরকারকেও জনগণের কষ্ট লাঘবে যথাসম্ভব দ্রুত পদক্ষেপ লইতে হইবে। দূর করিতে হইবে প্রশাসনিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতা।