রাজিনের খুব শখ ও পাখি পুষবে। বাড়ির ছাদে থাকবে বিশাল খাঁচা। হাজার হাজার পাখি পুষবে। ওর বাড়ির আকাশ ভরে থাকবে পাখির কলকাকলিতে। কিন্তু বড়োচাচা বললেন, পাখি পোষা সহজ নয়। পাখিরা খুব নোংরা করে। আর পাখিরা কোনো কথা শোনে না।
রাজিনের মন খারাপ হয়ে যায়। সে বলে, এমন পাখি পুষব যারা নোংরা করে না। যারা কথা বলে। যারা উড়ে পালিয়ে যেতে চায় না। কাক্কা তুমি আমাকে পাখির খাঁচা বানিয়ে দাও।
বড়ো একটা অ্যাক্যুরিয়াম বানিয়ে দেয়া হলো রাজিনকে। রঙিন মাছের সমাহার। মাছেদের খুব যত্ন নেয় রাজিন। মাছের পরে পাখি। পাখির খাঁচার আবদার। আমি চুপচাপ আছি। কয়েকদিন বাদে রাজিন প্যাঁ প্যাঁ শুরু করল। ও বেড়াল পুষবে।
কেন?
বেড়াল খুব অলস। খালি বসে থাকে। ঝামেলা করে না। তাই বেড়াল পুষব।
কিন্তু ভালো বেড়াল পাওয়া গেল না। একটা কুকুর পোষার কথাও বলেছিল রাজিন। ওর মা-বাবা হইহই করে উঠল।
কুকুর একেবারে সহ্য করতে পারি না। খবরদার। কুকুরের নাম নিবি না রাজিন। বলে চিত্কার করে উঠল মা। রাজিনের কুকুর পোষা হলো না। কেউ কুকুর বেড়াল পোষে শুনলেই রাজিনের মনটা উতলা হয়ে যায়। ছুটে তাদের বাড়িতে যেতে চায়।
কদিন ধরে রাজিন খুব চুপচাপ। শুধালাম, আবার কী হয়েছে?
কিছু না।
নতুন কিছু ভাবনা হচ্ছে?
রাজিন চুপ থাকে।
আমি একটা ডাইনোসর পুষব।
এবার আমি তো হো হো করে হেসে উঠি, ডাইনোসর কোথায় পাবি?
কেন মোটু-পাতলু কার্টুনে দেখলাম যে!
আহা রে! ওসব তো বানানো ফিল্ম। পৃথিবীর কোথাও নাই ডাইনোসর। ওরা বহুদিন আগেই হারিয়ে গেছে।
তাই নাকি?
মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল রাজিনের, ডাইনোসরদের কোথাও পাওয়া যাবে না?
আমার জবাব শুনে আরো গম্ভীর হয়ে গেল। বেচারা। শেষ পর্যন্ত ওর ডাইনোসর পোষা হলো না।