ব্যাংকের ওপর সরকারের ঋণ নির্ভরতা বেসরকারি খাতকে চাপে ফেলবে

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ৭৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে সরকার ঘোষিত প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজও ব্যাংকিং খাত থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে বিশাল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার ঘোষণায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বেসরকারি খাতে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, এর ফলে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সঙ্কুচিত হয়ে পড়তে পারে। এই ইস্যুটি তুলেছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফেরাম অব বাংলাদেশও (আইবিএফবি)। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গতকাল এক অনলাইন আলোচনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার বাজেট বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বেসরকারি খাত চাপে পড়তে পারে। এ সময় বক্তারা বলেন, এর ফলে বিনিয়োগ কমবে, শিল্পে চাপ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানে বড়ো আঘাত আসবে। ফলে  করোনার কারণে কর্মচ্যুত হওয়া কর্মী ও প্রতি বছর নতুন করে চাকরির বাজারে আসা ২০ লাখ নতুন কর্মীর কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হবে।

আইবিএফবির সভাপতি হুমায়ুন রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐ ভার্চুয়াল সভায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন আইবিএফবির সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকি, সহসভাপতি লুত্ফুননিছা সৌদিয়া খান, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান খান, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সরকার ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট দিলেও এতে আয়ের উত্স হিসেবে শুল্ক এবং ভ্যাটের কথা বলা হয়েছে। অথচ ব্যয় মিটাতে এই অর্থের উত্স কিভাবে হবে, তার কোনো দিক-নির্দেশনা নেই। কোভিড-১৯ এর এই দুর্যোগে স্বাস্থ্য খাত সবচেয়ে বড়ো সংকট তৈরি হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। 

এ সময় স্থানীয় শিল্পের উন্নয়নে ভ্যাট ও শুল্ক অব্যাহতি দেওয়া, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য বিদ্যমান প্রণোদনা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করাসহ বেশকিছু দাবি তুলে ধরেন তারা।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্যে দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, আইবিএফবির পরিচালক ড. মো. মুজিবুর রহমান, টিএমএসএসর সাবেক নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।