আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপির মিডিয়া-বাজির রাজনীতিতে ভাটা পড়ায় তারা গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘কর্মভীরু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বাক্যালাপে বীরত্ব প্রদর্শন করছেন।’ বিবৃতিতে তিনি করোনা সংকট জয়ের লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের আহ্বান জানান।
‘গণমাধ্যম সত্য প্রচারে শঙ্কিত’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণমাধ্যম হলো চলমান সমাজের দর্পণ। তারা সত্য প্রচারে নির্ভীক বরং বিএনপির সৃষ্ট গুজব প্রচারে অনীহা রয়েছে তাদের। দেশবাসী লক্ষ করেছে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি কীভাবে গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কথায়-কথায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশে যদি গণতন্ত্র না-ই থাকে তাহলে বিএনপির নেতৃবৃন্দ কীভাবে সরকারের বিরুদ্ধে এত মিথ্যাচার করার সুযোগ পান? তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের আগ্রাসি তাণ্ডবের সময়ে সাংবাদিক বন্ধুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে চলেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল এসব সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
‘বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চারটি পত্রিকা ব্যতীত সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তত্কালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও অন্যান্য মিলে ১২৬টির মতো সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। জাতির পিতা সংবাদপত্রের জগতে বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে গঠিত কমিটির সুপারিশে একটি কাঠামো দাঁড় করিয়েছিলেন মাত্র।
তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘গণতন্ত্র’ প্রত্যয়টির চেয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ওপর জোর দিয়েছিলেন। বাকশাল ছিল সেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিজেই বাকশালের কার্যকরী সদস্য ছিলেন।