৮৬ দিন পর গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাত থেকে সচল হলো বাংলাদেশের আকাশ পথ। এতদিন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে বন্ধ ছিল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল। আকাশ উন্মুক্ত করার পর শেষ রাত ২টায় কাতারের দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট ৩৩ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তারা সবাই ট্রানজিট যাত্রী। দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর ফিরতি ফ্লাইটটি ২৭৪ জন যাত্রী নিয়ে দোহার উদ্দেশে রওনা দেয়। কাতারে বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও যাত্রীরা শুধু ট্রানজিট হিসেবে কাতার ব্যবহার করে অন্য দেশে যেতে পারবেন।
২১ জুন থেকে যুক্তরাজ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালু হবে। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, যুক্তরাজ্যে বিমান লন্ডন ম্যানচেস্টার রুটে সপ্তাহের সাত দিনই ফ্লাইট পরিচালনা করত। আপাতত ম্যানচেস্টারে যাবে না বিমান। লন্ডনে প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে একটি করে ফ্লাইট যাবে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, কাতার এয়ারওয়েজকে প্রতি সপ্তাহে তিনটি করে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কাতার এয়ারওয়েজের ট্রানজিট যাত্রীরা কেবল চলাচল করতে পারবেন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে কেবল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলতে পারবে। বেবিচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে আন্তর্জাতিক আকাশপথের ফ্লাইটগুলো চলাচল করবে। প্রতিটি ফ্লাইটে মোট আসনসংখ্যার ৭৫ শতাংশের বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। সব যাত্রীর কোভিড-১৯ নেগেটিভসহ স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ করোনা আক্রান্ত দেশ এখনো তাদের আকাশপথ খুলে না দেওয়ায় সীমিত পরিমাণ ও সীমিত দেশেই পরিচালনা করতে হবে বাংলাদেশ বিমানকে।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট চালু করতে বেবিচককে চিঠি দিয়েছে চারটি বিদেশি এয়ারলাইন্স। এয়ারলাইন্সগুলো হচ্ছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘এমিরেটস’, ‘এয়ার অ্যারাবিয়া’, ‘ফ্লাই দুবাই’ এবং তুরস্কের ‘তার্কিশ এয়ারলাইন্স’। বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান আরো বলেন, তারা আমাদের কাছে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। আমরা তাদের বলেছি, যদি তাদের ফ্লাইট আমাদের দেশে আসে এবং তাহলে আমাদের দেশের এয়ারলাইন্সকেও সেদেশে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে।
এদিকে বেবিচক এক সার্কুলারে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনার কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, ওমান, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের শিডিউল কোনো প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।