রেড জোনের প্রজ্ঞাপন হলেই কার্যকর হবে সাধারণ ছুটি

রেড জোন আর লকডাউন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি কাটছে না। গতকাল মঙ্গলবার থেকে রেড জোন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন এই ছুটি কারা পাবে? কয়েক দিন আগে তো ঢাকা আর চট্টগ্রামের কিছু এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। তাহলে কি তারা ছুটিতে থাকবেন? এমন অজস  প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘যখন যে এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে তখনই ঐ এলাকায় সাধারণ ছুটি কার্যকর হবে। এখন কোনো এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন হয়নি। শুধু ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন চলছে। এই ছুটি ঐ এলাকার জন্য কার্যকর হবে। আবার নতুন করে যদি কোনো এলাকা লকডাউন করা হয় তখন সেই এলাকায় ছুটি কার্যকর হবে।’ 

তাহলে মানুষের মধ্যে এই বিভ্রান্তি কেন? শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘কয়েক দিন আগেই দেখলাম ঢাকার কয়েকটি থানাকে রেড ঘোষণা করা হলো। এরপর সাধারণ ছুটি। তাহলে তো ঐ থানা এলাকার বাসিন্দাদের ছুটি পাওয়ার কথা; কিন্তু এখন আবার নতুন করে কী সব এলোমেলো কথা বলা হচ্ছে, যা কিছুই বুঝতে পারছি না।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব থানার কথা বলা হয়েছে ঐ সব থানায় তো একসঙ্গে লকডাউন হবে না। একটা ওয়ার্ডকে অন্তত ১০টি ভাগে ভাগ করা হবে। এর একটি বা দুইটি এলাকা লকডাউন হতে পারে। তখন ঐ এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকবে। মন্ত্রীপরিষদের জারি করা প্রজ্ঞাপনে তো বলাই আছে, যেখানে রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন করা হবে সেখানেই এই ছুটি কার্যকর করা হবে। ছুটির প্রজ্ঞাপনটি মূলত প্রস্তুতির অংশ। কোনো এলাকা লকডাউন করতে হলে নানা ধরনের প্রস্তুতি নিতে হয়। এর একটি ছুটি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুনও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এখনো তো কোনো এলাকা রেড জোন ঘোষণা করা হয়নি। তাহলে ছুটির প্রশ্ন আসছে কেন? 

ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে পূর্ব রাজাবাজার এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউন কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মোট ৪৫টি এলাকাকে চিহ্নিত করে রেড জোন হিসেবে ঘোষণার সুপারিশ করেছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি। এই ৪৫টি এলাকা নিয়েই মূলত মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি। দায়িত্বশীলরা বলছেন, এটা সুপারিশ মাত্র। এখনো বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। যখন যেখানে বাস্তবায়ন করা হবে তার অন্তত তিন দিন আগে ঐ এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।