করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থা নয়

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক বিচারব্যবস্থায় ফিরছে না আদালতগুলো। এ সময় আদালতের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। সেই লক্ষ্যে উচ্চ ও নিম্ন আদালতে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে দুই দফায় সময়সীমা বৃদ্ধির পাশাপাশি মামলা পরিচালনার জন্য উচ্চ আদালতে বাড়ানো হয়েছে বেঞ্চের সংখ্যাও। শুরুতে চারটি বেঞ্চকে মামলা পরিচালনার এক্তিয়ার প্রদান করা হলেও এখন তেরটি বেঞ্চকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। ফৌজদারি মোশন, রিট মোশন, জামিনের আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের মামলার শুনানি গ্রহণ ও নিষ্পত্তির এক্তিয়ার দেওয়া হয়েছে বিচারকদের।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে, আদালত প্রাঙ্গণ অত্যন্ত জনাকীর্ণ। এখানে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা কতটা মেনে চলবেন সেটা নিয়ে কর্তৃপক্ষ সন্দিহান। এছাড়া বেশ কয়েক জন বিচারক ও আইনজীবী করোনায় আক্রান্ত। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আদালত খোলার পর করোনায় যদি কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, তার দায় কে নেবে? ফলে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক বিচারব্যবস্থায় ফেরা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহসাই নয় বলে সূত্র জানায়।

এদিকে করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন এলাকাকে তিনটি জোনে ভাগ করে লকডাউনের সরকারি সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই লক্ষ্যে যেসব আদালত ‘রেড জোন’ এলাকায় পড়বে সেখানকার ভার্চুয়াল কোর্টের বিচারকাজও বন্ধ থাকবে বলে সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে।

করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী জনগণ যাতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত না হন সেজন্য স্বাস্থ্যবিধি ও হাইকোর্টের প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুসরণ করে গত ১১ মে থেকে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঐ নির্দেশনার আলোকে ৩১ মে পর্যন্ত উচ্চ ও নিম্ন আদালতে বিচারকাজ চলছিল। ঐ সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ১৫ জুন পর্যন্ত ভার্চুয়াল কোর্টে বিচারকাজ পরিচালনার মেয়াদ বাড়ানো হয়। সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নির্দেশে ভার্চুয়াল কোর্টের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

গতকাল এ সংক্রান্ত সার্কুলারে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে ও শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্টে বিচারকাজ পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে রেড জোন এলাকায় অবস্থিত অধস্তন আদালতসমূহ এবং রেড জোনে বসবাসরত আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় লাল অঞ্চলসহ দেশের প্রতিটি জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং চিফ মেট্রোপলিটন এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার জন্য একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট কর্তব্যরত থাকবেন। ঐ সার্কুলারে বলা হয়েছে, সাধারণ ছুটিকালে আদালতের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।