বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর অঞ্চলের লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনা সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই দেশের বেশ কিছু সৈনিক নিহত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলছে চরম উত্তেজনা। এমন পরিস্থিতিতে লাদাখ সীমান্তে আর কোন সংঘর্ষ চায় না বলে জানিয়েছে চীন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার ভারত চীনের মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়েছে তাতে কমপক্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর ভারত সীমান্তে আর কোনও সংঘর্ষ দেখতে চায় না বলে জানিয়েছে চীন। দুই দেশ আলোচনা করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলেও চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান এই সংঘর্ষের জন্য চীনকে দোষী করা উচিত হবে না বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সীমান্তের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, ৬ জুনের সামরিক বৈঠকের পর চীন সেনাদের দখলকার জায়গা থেকে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার কথা ছিল। সেই কাজ খতিয়ে দেখতে শহিদ কর্নেল বিএল সন্তোষ বাবুর নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যায় শতাধিক ভারতীয় বাহিনী।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে করোনা সংকট তীব্র হবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে: গবেষণা
খবরে বলা হয়, টহলে গিয়ে ভারতীয় সেনার দেখেন যে দিব্যি তাঁবুতে গেড়ে বসে আছেন চীন সেনারা। চীনাদের বের করে সেই তাঁবু ভাঙতে শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় কিছু তাঁবুতে। এতেই বিপদ বুঝে কাঠের তক্তা, লোহার রড, কাটা তার জড়ানো বাটামসহ আরও ভারতীয় বাহিনী জড়ো হয় গালোয়ান এলাকায়। শুরু হয় দুইপক্ষের হাতাহাতি ও সংঘর্ষ। প্রায় ছয়ঘণ্টা ধরে চলে সেই সংঘর্ষ। সেই হামলায় অনেকে গালওয়ান নদীতে পড়ে ভেসে যান। অনেকে আহত হলেও, হিমাঙ্কের নীচে ঠাণ্ডা থাকার কারণে মৃত্যু হয়েছে।
ভারতের দাবি, তাদের মোট শহীদ হয়েছেন ২০ জন। আর এদিকে চীনের দাবি, তাদের হতাহতের সংখ্যা ৪৫।
ইত্তেফাক/আরআই