স্থানীয় ঋণপত্রে নিত্যপণ্যের ক্রয়ে অগ্রিম কর

বাজেটে চাল, ডাল, আটা, ভোজ্য তেল, লবণ, পেঁয়াজ, চিনিসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্য স্থানীয় ঋণপত্রের মাধ্যমে বিক্রিতে ২ শতাংশ কর আরোপ করেছে। অর্থাত্ এ প্রক্রিয়ায় কেউ পণ্য বিক্রি এবং লেনদেন করলে সেক্ষেত্রে উেস এই কর কর্তন করা হবে। অন্যদিকে সরবরাহের ক্ষেত্রে কর বিদ্যমান পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে দুই শতাংশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরবরাহকারীর কর কমলেও এলসির মাধ্যমে লেনদেনে দুই শতাংশ কর নতুন করে  আরোপ হওয়ায় পণ্যমূল্য বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। অবশ্য আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অগ্রিম পরিশোধ হওয়া এই কর বছর শেষে রিটার্ন দাখিলের সময় ব্যক্তির মোট কর থেকে বাদ যাবে। ফলে এর মাধ্যমে ভোক্তার ওপর বাড়তি দাম বাড়ার সুযোগ নেই। বাজেটে ২৬ ধরনের পণ্য স্থানীয় এলসির মাধ্যমে বিক্রয়ে ২ শতাংশ হারে এই কর আরোপ করা হয়েছে। এতে করে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, লবণ, ভোজ্য তেল, রসুন, মটরশুঁটি, মটর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ভুট্টা, আটা-ময়দা, চিনি, গোলমরিচ, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, তেজপাতা, বিভিন্ন ধরনের ফল, কম্পিউটার ও কম্পিউটারের আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি ক্রয় বা সংগ্রহকালে এ কর পরিশোধ করতে  হবে।

জানা গেছে, এটি মূলত খুচরা পর্যায়ের কর নয়। এক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানে ঋণপত্রের মাধ্যমে ক্রয়ে এই কর পরিশোধ করতে হবে। একইভাবে সরবরাহের ক্ষেত্রেও একইভাবে পরিশোধ করতে হবে। তবে যে নামেই হোক বিক্রেতারা এই করকে তার পণ্যের ওপরই হিসাব করবেন। ফলে যে কোনো নামেই হোক না কেন, পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে বাড়তি কোনো ব্যয় যোগ হলে তা তারা ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দেন। ফলে এতে ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। পুরনো ঢাকার পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী গোলাম মওলা ইত্তেফাককে বলেন, কর বাড়লে পণ্যের দামও বাড়বে। সেটা যে নামেই হোক না কেন। তিনি বলেন, আমার এক টাকা খরচও পণ্যের মধ্যেই যোগ হবে। এ সময় তিনি বলেন, আগে তাদের ওপর ন্যূনতম কর ০.২৫ শতাংশ হলেও নতুন বাজেটে তা দ্বিগুণ করা হয়েছে। ফলে তাদের ব্যয় বাড়বে। এটিও ভোক্তার ওপরই যাবে।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিও (ডিসিসিআই) স্থানীয় ঋণপত্রের ক্রয়-বিক্রয়ে দুই শতাংশ উেস কর আরোপ করায় পণ্যমূল্য বাড়তে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। অবশ্য এই করের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, এতদিন এ ধরনের পণ্যের সরবরাহের ক্ষেত্রে উেস কর ছিল ৫ শতাংশ। আর স্থানীয় এলসির মাধ্যমে বিক্রয়ে কর ছিল না। ফলে সরকারি বা বড়ো প্রতিষ্ঠানে যারা নিয়ম মেনে সরবরাহ করতেন, তারা ৫ শতাংশ অগ্রিম কর দিতেন। এর বাইরে একটি বড়ো অংশ কর এড়ানোর জন্য স্থানীয় এলসিতে পণ্য সরবরাহ করতেন। ফলে তাদের কোনো কর দিতে হতো না। বাজেটে উভয় প্রক্রিয়ায় পণ্য বিক্রয়ের ওপর ২ শতাংশ করা হয়েছে।