করোনাকালে সৃষ্ট দরিদ্র মানুষ বাজেটে উপেক্ষিত

প্রস্তাবিত ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নগর দারিদ্র্য ও করোনাকালে সৃষ্ট নতুন দরিদ্র মানুষ উপেক্ষিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী বৃদ্ধি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো বরাদ্দ নেই। এছাড়া সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন ও ডাটাবেজ করার জন্য পরিকল্পনা ও বরাদ্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমস্যা তো রয়েছেই।

গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘২০২০-২১ বাজেট ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা প্রমুখ। আলোচনাপত্র পাঠ ও সঞ্চালনা করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বাজেটের শিরোনামে মানুষ বাঁচানোর কথা বলা হলেও সামগ্রিকভাবে বরাবরের মতো প্রবৃদ্ধিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জীবন ও জীবিকার বিষয়টি এখন মুখোমুখি। বর্তমানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ, যার প্রতিফলন বাজেটে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না।

ড. এ কে এনামুল হক বলেন, অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা করোনার কারণে দ্বিগুণ হলেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন বাজেটে নেই। দরিদ্রদের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ বরাদ্দ থাকা দরকার ছিল। বিশেষ করে করোনা টেস্টের খরচটা সরকার তাদের দিতে পারত। শুধু ভাতা দিয়ে করোনাকালে দরিদ্র মানুষকে রক্ষা করা যাবে না বলে তিনি মনে করেন।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার উপকারভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা অনুযায়ী সাহায্য দেওয়া হয়। কিন্তু কর্মসূত্রে তিনি অন্য জায়গায় থাকতে পারেন। ফলে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন। এ প্রক্রিয়ার সংশোধন করা দরকার। শহরের বস্তিবাসী দরিদ্রদের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ থাকা উচিত ছিল বলে জানান ড. সায়মা হক বিদিশা। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যের পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টি এই সময়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের বিষয়। বিশেষ করে শিশুদের দিকে নজর দিতে হবে। এছাড়া সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ সাধন করার কথা জানান তিনি।