রাজধানীর বিমানবন্দর থানা ও দক্ষিণখান থানা এলাকায় মস্তকবিহীন লাশের দুইটি অংশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্ত করেছে গোয়েন্দারা। এই ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র। যে কোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে ঐ সূত্র। এদিকে গতকাল দক্ষিণখানের গাওয়াইর ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে ড্রেন থেকে নিহত হেলাল উদ্দিনের মস্তকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গাওয়াইর এলাকায় কয়েকটি সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে লাশ তিন টুকরা করা হয়। পরে লাশের টুকরা বস্তায় ভরে সন্দেহভাজন খুনি বাড়ি থেকে বের হয়। রাস্তায় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়া করে। বস্তাটি রিকশায় তুলে সেও উঠে পড়ে। রিকশাটি একটি গলির সামনে দাঁড় করানো হয়। পরে এদিক সেদিক তাকিয়ে রিকশা চালককে ভাড়া পরিশোধ করে বস্তাটি কাঁধে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। কিছুক্ষণ পর ঐ গলি থেকে বেরিয়ে যায় সন্দেহভাজন খুনি। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নিহত হেলাল উদ্দিন যে রুমটিতে ছিলেন সেই রুমমেটের সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল। এই হত্যার সঙ্গে এক বা একাধিক লোক জড়িত আছে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য হত্যাকারী কয়েক দফা বিভিন্ন স্থান থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা তুলেছে। যে ব্যক্তি টাকা পাঠাত সেই ব্যক্তি নিহত হেলাল উদ্দিনের রুমমেট। ঐ সূত্র জানায়, হত্যার মূল রহস্য উদ্ধার করা হয়েছে। যে কোনো সময় খুনিদের গ্রেফতার করা হবে।
পুলিশ জানায়, বিমানবন্দর ও দক্ষিণখান থানা এলাকায় মস্তকবিহীন লাশের ক্ষতবিক্ষত দুইটি অংশ উদ্ধারের ঘটনায় দক্ষিণ খান থানায় গত মঙ্গলবার অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় মামলা করেন নিহত হেলাল উদ্দিনের বড়ো ভাই হুজায়ফা হোসেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সারোয়ার হোসেন বলেন, লাশের তিন টুকরা উদ্ধার হয়েছে। সম্ভাব্য খুনিও শনাক্ত করা গেছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, নিহত হেলাল উদ্দিন দক্ষিণখান এলাকায় বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন।