সংস্কারের বছর না ঘুরতেই ফের অচল পুঠিয়া-তাহেরপুর সড়ক

সংস্কারের বছর না ঘুরতেই আবারও খানাখন্দে ভরে গেছে রাজশাহীর পুঠিয়া-তাহেরপুর সড়ক। এছাড়া আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমেছে সড়কটিতে। ফলে এই সড়কে আবারও জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, আবারও সংস্কারের অর্থ বরাদ্দ হলেও বর্ষা মৌসুমের কারণে আপাতত কাজে হাত দেওয়া যাচ্ছে না।

জানা যায়, পুঠিয়া হতে তাহেরপুর পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক প্রায় প্রতি বছরই সংস্কার করা হয়। তবে সড়কের উচ্চতা অনেক কম হওয়ায় বর্ষায় সড়কটির কয়েকটি এলাকায় পানি জমে। এ কারণে সড়কটি পুনঃসংস্কার করা হলেও টেকসই হয় না। পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু বলেন, ‘পুঠিয়া দুর্গাপুর ও বাগমারা আসনের বর্তমান সাংসদদের প্রচেষ্টায় চলতি বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেকে ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছেন। রাস্তাটি ২৪ ফুট চওড়া ও ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে নির্মাণ কাজ শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’ তবে পথচারীদের অভিযোগ, বর্তমানে পুরো সড়কের বুকে গর্তের সৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই যানবাহনগুলো আটকে পড়ছে। আবার অনেক সময় গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙে রাস্তাতেই পড়ে থাকছে। তারা আরো বলেন, সড়কটি ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার। যার কারণে সংস্কার করার কিছু দিনের মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড়ো গর্ত ও ভাঙন শুরু হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা মাঝে মধ্যে সড়কের কয়েকটি স্থানে ইট-বালু দিয়ে বড়ো গর্তগুলো বন্ধ করে। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে তা পুরোনো রুপে ফিরে আসে।

পুঠিয়ার শিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল বলেন, ‘এই সড়কে দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাগমারা, নাটোরের নলডাঙ্গা ও নওগাঁ জেলার কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। সড়কটি সংস্কারে অনিয়মের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়েক বার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছি। সড়ক ও জনপথের লোকজন মাঝে মধ্যে ভাঙাচোরা দুই এক স্থানে এসে নামমাত্র কিছু ইট-বালু ফেলে চলে যায়। এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সানজিদা আফরিন ঝিনুক বলেন, ‘গত দুই দিন আগে ঐ সড়কের জিও পাশ হয়েছে। তবে বর্ষায় কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। আর সড়কটির জরাজীর্ণ স্থানগুলো পর্যায়ক্রমে আমরা ইট-বালি দিয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী রাখছি।’