দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে প্রতিদিন ক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি নমুনা আসায় সৃষ্টি হচ্ছে নমুনা জটের। দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী—দেশের সবচেয়ে উত্তরের এই চার জেলার নমুনা এখানে আসছে। জটের কারণে সময়মতো রিপোর্ট না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন নমুনা প্রদানকারীরা। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এই অবস্থায় করোনা উপসর্গ ছাড়া আর নমুনা সংগ্রহ করা হবে না।
এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবটির কার্যক্রম শুরু হয় গত ২৬ এপ্রিল। গত ১৫ জুন পর্যন্ত এই ল্যাবে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৮ হাজার ২০২টি। এর মধ্যে করোনা ভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়েছে ৮১৭ জনের। প্রথম অবস্থায় সময়মতো রিপোর্ট পেলেও এখন নমুনা দেওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রিপোর্ট পাচ্ছেন না নমুনা প্রদানকারীরা। এতে এক দিকে যেমন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকছে নমুনা প্রদানকারীরা, পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দিনাজপুরের বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা প্রদানকারী তিন জন মঙ্গলবার জানালেন, এক করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে যাওয়ার কারণেই গত ৯ জুন তারা নমুনা দিয়েছেন। কিন্তু সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের রিপোর্ট আসেনি। কোনো উপসর্গও নেই। কিন্তু রিপোর্ট না পাওয়ায় তারা এক প্রকার শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছেন। এরকম অবস্থায় রয়েছেন, এই চার জেলার শত শত মানুষ। বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সপ্তাহেরও আগে দেওয়া নমুনার রিপোর্ট না পেয়ে প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করছেন নমুনা প্রদানকারী ও তাদের স্বজনরা।
দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শিবেশ সরকার জানান, এই ল্যাবে প্রতিদিন দুই শিফটে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু চারটি জেলা থেকে প্রতিদিন নমুনা আসছে ৩০০ থেকে ৫০০ পর্যন্ত। ক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি নমুনা আসায় সময়মতো রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এই ল্যাবে পরীক্ষার অপেক্ষায় জমা হয়ে আছে ১ হাজার ৪৭১টি নমুনা। এর সঙ্গে প্রতিদিন আরো নমুনা আসায় এই জমার পরিমাণ আরো বাড়বে। তাই রিপোর্ট দিতে আরো বেশি সময় লাগবে।
দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, সময়মতো রিপোর্ট দিতে না পারায় তাদের অনেক কথা শুনতে হচ্ছে। তাছাড়া নমুনা প্রদানকারীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। কিন্তু উপায়ও নেই। এই অবস্থায় আপাতত করোনা উপসর্গ না থাকলে নমুনা নেওয়া হবে না। তবে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে অধিক পরীক্ষার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবটি ব্যবহার করা গেলে অনেকটা চাপ কমে আসবে।
এদিকে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি উঠেছে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলায়। এ লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁও জেলায় ইতিমধ্যে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।