কংস নদের প্রবল ভাঙনে দুই শতাধিক বাড়িঘর বিলীন

নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ফকিরের বাজার এলাকায় কংস নদের প্রবল ভাঙনে প্রায় দুই শতাধিক বাড়িঘর ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরো পাঁচটি গ্রামের প্রায় শতাধিক বাড়িঘর। জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী একমাত্র সেতুসহ সড়কটি এখন ভাঙনের সম্মুখীন। চরপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার জানান, কয়েক বছর ধরে কংস নদের ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে কর্ণপুর, চরপাড়া, পাঁচপাই ও বাঘরুয়া গ্রামের প্রায় পাঁচ শ বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা হারিয়ে লোকজন এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। যোগাযোগের একমাত্র সড়কটিও হুমকির মুখে রয়েছে। এখনই সড়কসহ নদের তীরে স্থায়ী বাঁধ না দিলে আরো কয়েক হাজার বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কর্ণপুর গ্রামের পংকজ মজুমদার জানান, নদীভাঙন রোধের জন্য কয়েক বছর ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের লোকদের জানানো হলেও নদীভাঙন রোধে টেকসই স্থায়ী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি সম্প্রতি নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। ভাঙনের ভয়াবহতা দেখে নেতৃবৃন্দ দ্রুত স্থায়ী বাঁধের আশ্বাস দেন। বারহাট্টার রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রাজু জানান, নদের তীর রক্ষা বাঁধসহ অবিলম্বে সড়কটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আক্তারুজ্জামান জানান, তিনি নদীভাঙনের বিষয়ে অবহিত আছেন। ভাঙন রোধকল্পে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সড়কের ভাঙনকবলিত অংশটিকে সাময়িক রক্ষার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।