উত্তর কাট্টলী লকডাউন

করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হলেও লকডাউন করা হয়েছে মাত্র একটি ওয়ার্ড। রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত বাকি ৯ ওয়ার্ডে মানুষজন অবাধে চলাফেরা করছে। কলকারখানা, কাঁচাবাজার, দোকানপাট খোলা থাকায় মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব সেভাবে রক্ষা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে পুলিশের নজরদারিও আগের মতো কঠোর নয়। প্রধান সড়কগুলোয় দিনে দুয়েকবার পুলিশের টহল টিমকে দেখা যায়। তবে পুলিশের গাড়ি কখনোই অলিগলিতে প্রবেশ করে না। এ কারণে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত ওইসব এলাকায় সংক্রমণ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, নগরীতে রেড জোন ঘোষিত ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে—উত্তর কাট্টলী, উত্তর-মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর, চকবাজার, দেওয়ানবাজার, জামালখান, এনায়েত বাজার, লালখান বাজার এবং উত্তর হালিশহর ওয়ার্ড। এই ১০টির মধ্যে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে লকডাউন করা হয়েছে শুধু উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড। এলাকাভিত্তিক ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাকি এলাকাগুলো লকডাউন করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, নতুন করে ১৭৯ জনসহ গতকাল বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৮৫ জন। এর মধ্যে গতকাল নগর এলাকায় ১২৩ জন এবং বিভিন্ন উপজেলায় ৫৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের       সংক্রমণ পাওয়া গেছে। একই দিনে মারা গেছে নুরুল হক নামের এক জন চিকিত্সকসহ তিন জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৯ জন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন করা হয়েছে নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড। লকডাউন কার্যকর করে ওয়ার্ডের ১৪টি প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনের জন্য ছয়টি প্রবেশপথ খোলা রাখা হয়েছে। লকডাউনের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে সাগরিকা বিসিক শিল্প এলাকা। এলাকা টহল দিচ্ছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। বাসিন্দাদের সার্বক্ষণিক ঘরে অবস্থানসহ সাতটি নির্দেশনা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সিটি করপোরেশন।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা জানিয়েছেন, লকডাউন এলাকায় প্রতিদিন রিকশাভ্যানের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কাঁচাবাজার সরবরাহ করা হবে। চসিকের ব্যবস্থাপনায় কোভিড ও নন-কোভিড রোগীদের চিকিত্সা ও হাসপাতালে পাঠানোর জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা আছে। লকডাউন এলাকায় বসবাসরত সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। লকডাউন এলাকায় সিটি করপোরেশন একাধিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর—০৩১- ৪৩১৫১৩৬৮, ০৩১-৪৩১৫১৩৬৯, ০৩১-৪৩১৫১৩৭০, ০৩১-৪৩১৫১৩৭১, ০৩১-৪৩১৫১৩৭২ এবং ০১৮১৯-০৫৬৮৪৪, ০১৮১১-৮৮৭০৮৪।

এদিকে জোনিংয়ের মাধ্যমে লকডাউন কার্যকর করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। লকডাউনকৃত এলাকার বাসিন্দাদেরকে সার্বক্ষণিক ঘরে থাকতে বলা হলেও অনেকেই কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি নিয়ে সংশয়ে পড়ছেন। গার্মেন্টস শ্রমিকসহ নানা পেশার কর্মজীবী মানুষজনকে লকডাউন সময়ের জন্য নিজ বাসা ছেড়ে দিয়ে সাময়িকভাবে অন্যত্র থাকার জন্য অফিস থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কর্মজীবী নারীরা পড়েছেন বেকায়দায়। কর্মস্থলে উপস্থিত হতে না পারলে বেতন কাটা যেতে পারে বলে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তবে লকডাউনের অজুহাতে কারো বেতন কাটা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে অথবা সিটি করপোরেশনের কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।