রাজশাহীর পবা উপজেলার শ্যামপুরে বালুমহালের বালু নিয়ে সাবেক ও বর্তমান ইজারাদারের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। বালুমহালের সাবেক ইজারাদার মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেসার্স আমিন ট্রেডার্সের মালিক আজিজুল আলম রেন্টু বলেন, ১৩ এপ্রিল ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু আগের মজুতকৃত বালু বিক্রিতে বাধা দেয় নতুন ইজারাদার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রজব আলীর লোকজন। থানায় এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তো কোনো ব্যবস্থা নেয়ইনি, উলটো পুলিশের সহযোগিতায় তার বালু জোরপূর্বক বিক্রি করছে নতুন ইজারাদার। এ নিয়ে আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
রেন্টুর নিয়োগকৃত বালুমহালের কেয়ারটেকার জনি ইসলাম জানান, চরশ্যামপুর ও চরখিদিরপুরের ১২০ একরের বালুমহাল লিজ পায় মেসার্স আমিন ট্রেডার্স। তারা বালু উত্তোলন করে পদ্মাপাড়ের শ্যামপুরে প্রায় ২০ একর লিজকৃত জমিতে তা মজুত করেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বিক্রি বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ বালু মজুত থেকে যায়। গত ৮ জুন ঐ বালুমহাল জেলা প্রশাসন নতুন করে ইজারা দেয়। ৫ কোটি ১০ লাখ টাকায় এটি ইজারা নেন রাসিকের প্যানেল মেয়র-২ রজব আলীর প্রতিষ্ঠান মেসার্স রজব আলী ট্রেডার্স। ঐদিন বিকালেই নতুন ইজারাদার, সাবেক ইজারাদারের লোকদের আগের মজুত করা বালু বিক্রিতে বাধা দেয়। এ নিয়ে কাটাখালি থানায় সাবেক ইজারাদার লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু ১৫ জুন রাতে পুলিশের সহযোগিতায় নতুন ইজারাদারের লোকজন পুরোনো ইজারাদারের বালু বিক্রি শুরু করে। এর আগে ১০ জুন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ কর্মকর্তারা বালুমহাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা মজুত বালু মাপেন। সে অনুযায়ী সেখানে মজুত ছিল ১ কোটি ২ লাখ সেফটি বালু। যার মূল্য ৫ কোটি টাকার ওপরে। বালুমহাল থেকে ঐ বালু উত্তোলন করে মজুত করতে খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। তবে নতুন ইজারাদার রজব আলী, আমিন ট্রেডার্সের বালু জোরপূর্বক বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেখানে আগের ইজারাদারের কোনো বালু নেই। ইজারাদার হিসেবে তিনি টোল নিচ্ছেন। এছাড়া কাটাখালি থানার ওসি জিল্লুুর রহমান বালু বিক্রিতে পুলিশের সহযোগিতার অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেন।