কক্সবাজারে ভারী বর্ষণ ও ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

গত দুই দিন ধরে কক্সবাজারের সর্বত্র ভারী বর্ষণ চলছে। অতিবৃষ্টির কারণে ঈদগায়ের ফুলেশ্বরী, চকরিয়ার মাতামুহুরি ও বাঁকখালীতে নেমেছে পাহাড়ি ঢল। ঢলের তীব্রতায় ভেঙে গেছে ঈদগায়ের নদীর ফরাজিপাড়া মনজুর মৌলভীর দোকান এলাকার বাঁধ। ভাঙনের পথে রয়েছে কবি নুরুল হুদা সড়কের বাঁশঘাটা অংশ। মহেশখালীর জনতাবাজার সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া পাহাড় বেয়ে নামা পানিতে তলিয়ে গেছে কক্সবাজার শহরের প্রধান ও উপসড়কগুলো। পানির সঙ্গে ভেসে আসা নালার ময়লায় একাকার পথঘাট। পানি ঢুকেছে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে।

বর্ষণ আর ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বৃহত্তর ঈদগায়ের পোকখালী ও ইসলামাবাদ এলাকার বেশ কিছু গ্রামের রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলের মাঠ। ভাঙনের কবলে পড়ছে অভ্যন্তরীণ সড়কও। পানি প্লাবিত করছে জালালাবাদ, ঈদগায়ের  ভোমরিয়াঘোনা, চৌফলদণ্ডী ও কালিরছরা এলাকার বিস্তৃর্ণ এলাকা। গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত মানুষ।

এছাড়া শহরের হোটেল-মোটেল জোন, ঝিলংজার চান্দেরপাড়া, খরুলিয়া, দরগাহপাড়া, পোকখালীর মধ্যম পোকখালী, নাইক্ষংদিয়া, চৌফলদণ্ডী, নতুনমহাল, ঈদগাহ বাজার এলাকা, কালিরছড়া, রামুর উপজেলার ধলিরছরা, রশিদনগর, জোয়ারিয়ানালা, উত্তর মিঠাছড়ি, পূর্ব ও পশ্চিম মেরংলোয়া, চাকমারকুল, কলঘর, লিংক রোড়, চকরিয়া পৌরসভার বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি ভোগান্তি বাড়িয়েছে উপকূলবাসীর।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আবু মহসিন জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুই দিনে গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে প্রায় ১৭৬ মিলিমিটার। থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ঢলের তীব্রতা বাড়ছে। সমতলের বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় পানিবন্দি হয়ে পড়ছে নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ। বৃষ্টিপাত আরো কয়েক দিন স্থায়ী থাকতে পারে। সমুদ্রে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাহাড়ধসেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিকে অতিবর্ষণে পাহাড়ধস বা যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে স্থানীয়দের রক্ষার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।