ক্যারিয়ারের শুরুতে মাশরাফি বিন মুর্তজার সময় অনেকটা এমনই কেটেছিল। ছুটি বা ফুরসত মিললেই নড়াইলের দিকে ছুটতেন মাশরাফি। তার উত্তরসূরি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড়ো ভরসা মুস্তাফিজুর রহমানও একই স্বভাবের। সাতক্ষীরাতেই নিহিত তার আত্মার শান্তি। ছুটির সময়টা গ্রামে থাকতেই ভালোবাসেন বাঁহাতি এই পেসার।
কিন্তু ছুটি, আসলে সেটা কতদিন? এক বা দুই সপ্তাহ। বুধবার রাতে মুঠোফোনের আলাপে খোদ মুস্তাফিজই বলছিলেন,‘এখন ছুটিতে আছি। ছুটিটা কতদিন, এক-দুই সপ্তাহ হয়। এতদিন তো আর বসে থেকে পারা যায় না।’
মুস্তাফিজের হূদয়ের কথা পড়তে এই কয়েকটি বাক্যই যথেষ্ট।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত মার্চ থেকে সাতক্ষীরায় অবস্থান করছেন ২৪ বছর বয়সি এই পেসার। অবারিত ছুটিতে তিন মাস পেরিয়ে গেছে। ২০১১ সালে সর্বশেষ এত লম্বা সময় একটানা বাড়িতে ছিলেন তিনি। দীর্ঘসময় মাঠে না থাকতে পারাটা তাই মন খারাপের সময় বয়ে আনছে মুস্তাফিজের জন্য, ‘এটা তো খারাপ লাগেই। আমরা মাঠের মানুষ।’
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানায় করোনার রোগী শনাক্ত হয়েছে। মুস্তাফিজের গ্রাম তেঁতুলিয়ায় অবশ্য নেই। বাড়িতে বসে পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটছে এই তরুণের। বিসিবির ট্রেনার, ফিজিওদের দেওয়া ফিটনেসের কাজগুলো করছেন নিয়মিত। মুস্তাফিজ বলেন, ‘বাড়িতে আছি। এখানেই কাটছে। আমাদের ট্রেনার, ফিজিও সিডিউল দিয়ে রাখছে। ওগুলো করছি।’
ঈদের আগে টুকটাক বোলিংও করেছিলেন। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ভয়াবহতার পর সেই সুযোগও শেষ হয়ে গেছে। মুস্তাফিজ বলেন, ‘বোলিং হয় না এখন আর। আগে তাও উঠানে হইত। এখন তাও বন্ধ। আম্ফানের পর থেকে তো আমাদের এখানে বৃষ্টি একটু বেশি। এদিক-ওদিক গিয়ে কাজ করব সেই সুযোগটা নাই। সুযোগ কমে গেছে। ঘরের ভেতরই যতটুকু করা যায়।’
আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতি চাক্ষুষ দেখেছেন মুস্তাফিজ। নিজের জেলার মানুষদের কষ্ট ছুঁয়েছে তাকেও। বলেছেন,‘আমাদের থানায় অত না (আম্ফানের তাণ্ডব)। আমাদের পাশের দুইটা থানায় বেশি ক্ষতি হয়েছে। শ্যামনগর ও আশাশুনিতে বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমাদের এখানে কিছু মানুষের গেছে। শ্যামনগর থানা এখনো ঠিক হয়নি। আশাশুনির খারাপ অবস্থা।’
করোনার সময়েই নিজের এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন মুস্তাফিজ। সে সব অবশ্য গণমাধ্যমে উঠে আসেনি। বাঁহাতি এই পেসার নিজেই তা চাননি। কাউকে জানিয়ে কিছু করতে চান না তিনি। এলাকার মানুষের পাশে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেছেন, ‘সেটা আমি বলবো না। আমি আমার এলাকায় দিছি। কিছু মানুষের। করোনার সময়। কি দিছি, তা বলবো না।’
করোনা-পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটটা কঠিন হবে, ছন্দ ফিরে পেতে সময় লাগবে বলে মনে করেন মুস্তাফিজ। তিনি বলেন, ‘কঠিন তো হবেই। যতই কাজ করি না কেন বাইরে, মাঠে ফিরলে সহজ হবে না। প্রাকটিস, ফিটনেস অনেকদিন করলে আস্তে আস্তে হয়তো আগের অবস্থায় যাওয়া যাবে। তত দ্রুত হবে না। সময় লাগবে রিদম আসতে।’