করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে আগামী অর্থবছর বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। অর্থনীতি সচল থাকলে আগামী অর্থবছর (২০২০-২০২১) সাড়ে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল বৃহস্পতিবার এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক এর সম্পূরক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৪ শতাংশে নেমে আসবে বলে অনুমান করা হয়েছে। এডিবি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, করোনা মহামারি পরিস্থিতি তিন মাস চলার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করলে সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হতে পারে।
এ বিষয়ে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ উল্লেখ করেছেন, আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির বিষয়টি নির্ভর করছে কীভাবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়, তার ওপর। তাছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সক্রিয় উদ্যোগ, স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃষক, উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ সহজ হলে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। উল্লেখ্য, সরকার চলতি অর্থবছরে ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব করেছে। সেই সঙ্গে আগামী অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এডিবি উল্লেখ করেছে, বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারি এবং বাংলাদেশে এর প্রকোপে চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহামারিতে রপ্তানি আয় ব্যাপকভাবে কমে যায়। সেই সঙ্গে রেমিট্যান্স কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না বাড়ায় চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধিও লক্ষ্য অনুযায়ী হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, ক্ষতি কাটাতে ঘোষিত প্রণোদনা এবং অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোও বিবেচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। আসছে বাজেটে নতুন অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে বেঁধে রাখার আশা করছে সরকার। এডিবিও বলেছে, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বাসাবাড়ির গ্যাসের দাম বাড়ায় চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হলে আগামী অর্থবছরে তা কমে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। এডিবির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জরুরি এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় এডিবি ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে ৬০ কোটি ডলার ঋণ এবং ১৪ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে। আগামী অর্থবছরও এডিবির সহায়তা অব্যাহত থাকবে।