বাজেটের কিছু সিদ্ধান্তে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে

প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু সিদ্ধান্তে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত ভ্যাটের আপিলের ক্ষেত্রে অগ্রিম ভ্যাট জমা দ্বিগুণ করা, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া, কিছু ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর ঠিক করে দেওয়া এবং উেস করের মতো বিষয়গুলোতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেছেন তারা। একই সঙ্গে পেনশন ও গ্র্যাচুইটিকে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতায় আনায় চাকরিজীবীরা চাকরি শেষে বড়ো অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলেও মনে করছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলের ওপর ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস, বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত এক অনলাইনভিত্তিক আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন। বাজেট পাশের সময় এসব বিষয়ে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আইসিএবির সাবেক সভাপতি হুমায়ূন কবীরের সঞ্চালনায় এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় এনবিআর কর্মকর্তারাও বাজেটে কিছু বিষয়ে তাদের যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি কিছু বিষয় সমাধানের বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছেন। যদিও বাজেট পাশকালে খুব বেশি পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এনবিআর আয়কর নীতি বিভাগের সদস্য আলমগীর হোসেন। এতে আইসিএবির বিপুলসংখ্যক সদস্য অনলাইনে যুক্ত হন।

অর্থবিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার স্নেহাশীষ বড়ুয়া প্রস্তাবিত বাজেটে বেশকিছু ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আয়করের ক্ষেত্রে কোম্পানির ব্যবসায়ের প্রমোশনাল ব্যয়ে রাশ টানা এবং গ্র্যাচুইটির অনুমোদন নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। ভ্যাটের ক্ষেত্রে কমিশনারের অনুমতি ছাড়া মাঠ পর্যায়ের রাজস্ব কর্মকর্তাদের হাতে বিস্তর ক্ষমতা ও যে কোনো সময় প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া এবং ভ্যাট আপিলে অগ্রিম ভ্যাট দ্বিগুণ করে দেওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এর ফলে ব্যবসা ও ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া ন্যূনতম কর ও কিছু ক্ষেত্রে ২ শতাংশ অগ্রিম করের বিষয়টিও পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এতে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হবে। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনবিআর সদস্য রঞ্জন কুমার ভৌমিক প্রমুখ।