বরিশালে যত্রতত্র বাজার মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

স্বাস্থ্যবিধি মানতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকলেও বাজারগুলোতে তা মানা হচ্ছে না। নির্দিষ্ট স্থান ব্যতীত নগরীর যত্রতত্র বাজার বসায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকার মানুষের মাঝে। ইতিমধ্যেই এলাকাবাসী বিষয়টি লিখিত ও মৌখিকভাবে প্রশাসনকে অবহিতও করেছে। আর করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে অর্ধেকই বরিশাল নগরীতে। লকডাউন শিথিলের পর স্বাস্থ্যবিধি না মানায় রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত জেলায় প্রতিদিনই নতুন করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যার মধ্যে চিকিত্সক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, স্বাস্থ্যকর্মী, র্যাব ও পুলিশ সদস্য এবং ব্যাংক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

জানা গেছে, দেশের চলমান অবস্থার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক গত ২১ এপ্রিল বরিশাল নগরীর ১১টি বাজার স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তার বাস্তবায়ন নেই। বাজারগুলো স্থানান্তর তো দূরের কথা পূর্বের স্থানগুলোতে মানা হচ্ছে না কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি। নগরীর চৌমাথা বাজারটি পার্শ্ববর্তী সরকারি হাতেম আলী কলেজ মাঠে স্থানান্তর করতে বলা হলেও উলটো ফোর লেন বন্ধ করে ব্রিজের ঢালে তা স্থানান্তর করা হয়েছে। সংকীর্ণ জায়গায় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিভাগের মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৭৯৪ জনের মধ্যে বরিশাল জেলায় শনাক্ত ১ হাজার ৫৭ জন। এর মধ্যে ৮০০ র অধিক আক্রান্ত বরিশাল নগরীতে। বিভাগে মৃত্যুবরণকারী ৩৫ জনের মধ্যে বরিশাল জেলায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫ জন। এছাড়া পটুয়াখালীতে ১৯৯, ভোলায় ১৫৯, পিরোজপুরে ১৩৩, বরগুনায় ১৪৪ ও ঝালকাঠী জেলায় ১০২ জন আক্রান্ত হয়েছে।