চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৭০ শতাংশ

বিশ্ব জুড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় খুলনা অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। দেশের ‘সাদা সোনা’ খ্যাত চিংড়ি রপ্তানি কমে গেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। ফলে গত চার মাসে এ খাতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে জেলার অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যও বন্ধ রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে আর্থিক প্রণোদনা দাবি করেছেন খুলনার ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া হিমায়িত চিংড়ির ৮৫ ভাগ রপ্তানি হয় ইউরোপে। এছাড়া বাকি ১৫ ভাগ চিংড়ি রপ্তানি হয় আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে। গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে বাংলাদেশের বৈদেশির মুদ্রা আয় হয়েছিল প্রায় ৪ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। তবে ইউরোপসহ বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার কারণে গত মার্চ থেকে বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি প্রায় ৭০ শতাংশ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চলতি অর্থবছরে কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, খুলনা অঞ্চলে প্রায় ৭০টি হিমায়িত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে। তবে লোকসানের কারণে বিভিন্ন সময় ৪০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে মাত্র ৩০টি কারখানা কোনোমতে চালু রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতি মাসে এ খাতে ৫০০ কোটি থেকে ৭০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। অর্থাত্ গত মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত চিংড়ি শিল্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা দাবি করেছেন তারা।

বিএফএফইএর সাবেক পরিচালক শেখ হুমায়ুন কবির হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে আংশিকভাবে চিংড়ি রপ্তানি হচ্ছে। তবে তা ৩০ শতাংশের বেশি না। মার্চ মাস থেকে যে পারচেজ অর্ডারগুলো (এলসি) বন্ধ হয়ে আছে, তা এখনো চালু হয়নি।

এদিকে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর মুহসীন মোড় থেকে রেলগেট পর্যন্ত রেল লাইনসংলগ্ন সড়কের পাশের পাটের গোডাউনগুলোও বন্ধ হয়ে আছে। এসব গোডাউনের প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর জুট বেলিং ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মাস্টার।

দৌলতপুরের কাঁচা পাট রপ্তানিকারক এ এম হারুনুর রশীদ আকুঞ্জি বলেন, খুলনা থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি হয়। যার মূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা; কিন্তু গত চার মাস ধরে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ থাকায় শ্রমিক-কর্মচারী ও রপ্তানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন। শ্রমিকদের অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে। আর মালিকদের ব্যাংক ঋণের সুদ ও গোডাউন ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ সৈয়দ আলী বলেন, করোনার কারণে আমরা ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

এছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় খুলনার বিভিন্ন দোকানপাটের শত শত শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে শুধু বড়ো ব্যবসায়ীদের নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদেরও সরকারি প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন।