বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। গত ৮ মার্চ প্রথম সংক্রমণের পর ১০৩তম দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর এর মধ্য দিয়ে সংক্রমণের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ এখন জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় ১৭তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই বাড়তে থাকায় সামনের দিনগুলোতে লাশের মিছিল দীর্ঘ থেকে আরো দীর্ঘতর হবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তারা বলেছেন, সচেতন থাকার কোন বিকল্প নেই। সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মানতে হবে। তবে বাংলাদেশে সংক্রমণ কবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গ্রাফ আবার নিম্নমুখী হবে, সেই বিষয়ে এখনও কোনো ধারণা দিতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৮০৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে আরো ৩৮ জন মারা গেছেন গত এক দিনে। এতে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৪৩ জন। নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা গতকাল বৃহস্পতিবার এসব তথ্য তুলে ধরেন। এদিকে কোভিড-১৯ আক্রান্তের পর সুস্থ হয়ে ওঠা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বুলেটিনে যুক্ত হয়ে বলেন, দেশের করোনা ভাইরাস আগামী এক-দুই বা তিন মাসে যাবে না। এটি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়েও বেশি স্থায়ী হবে। যদিও সংক্রমণের মাত্রা উচ্চহারে না-ও থাকতে পারে। আর সেজন্য সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
মাত্র ১৬ দিনে ৫০ হাজার শনাক্ত
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর প্রথম ৫০ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৮৭ দিনের মাথায়; এরপর তা লাখে পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র ১৬ দিন। দেশে প্রথম রোগী শনাক্তের ২৮ দিন পর ৬ এপ্রিল মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়ায়। ১৪ এপ্রিল এক হাজার ছাড়ায় শনাক্ত রোগী। এরপর ৪ মে ১০ হাজার, ১৫ মে ২০ হাজার এবং ২ জুন পঞ্চাশ হাজার ছাড়িয়েছিল মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। পরের ১৬ দিনেই মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়াল।
বাংলাদেশে ১৮ মার্চ প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী মারা যায়। ২০ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়ায়। ১০ জুন মৃতের সংখ্যা হাজারের ঘর পেরিয়ে যায়। মৃত্যুর হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মার্চে ৫ জন, এপ্রিলে ১৬৩ জন, মে’তে ৪৮২ জন এবং জুনে এখনও পর্যন্ত ৬১২ জন মারা গেছেন। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির আরেকটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ হাজার রোগী শনাক্ত হতে সময় লাগে ৫৮ দিন। আর সর্বশেষ ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে মাত্র ৩ দিনে।
সুস্থতার হার ৩৯.২৬ শতাংশ
আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাব দিয়ে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ১ হাজার ৯৭৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল মোট ৪০ হাজার ১৬৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। তিনি বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী। মৃত ৩৮ জনের মধ্যে ৫ জনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এছাড়া ২ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১৪ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৩ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ১০ বছরের নিচে ছিল।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫৯টি ল্যাবে ১৬ হাজার ২৫৯টি পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৩টি নমুনা। নমুনা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরো ৬৭৪ জন এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১১ হাজার ২৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৮২১ জনকে। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৫ হাজার ৭০৬ জন।