করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সঙ্গে বেড়ে চলেছে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু। শুক্রবার করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা ও স্থাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় করোনার উপসর্গ নিয়ে দুই নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: করোনার নমুনা সংগ্রহকারী দলের ওপর হামলা
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ও করোনা ওয়ার্ডের মুখপাত্র ডা. মিজানুর রহমান জানান, জ¦র ও শ^াসকষ্ট নিয়ে কার্ত্তিক (৪০) নামে এক যুবক গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌঁনে ৭টায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় তিনি মারা যান। মৃত কার্ত্তিক নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া গ্রামের মৃত নিতাইয়ের ছেলে।
অপরদিকে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে জামসেদ আলম (৬০) নামে একজন শুক্রবার দুপুর সোয় ২টায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় তিনি মারা যান। মৃত জামসেদ আলম খুলনা মহানগরীর ৫ নম্বর ঘাট এলাকার মো. আহমদের ছেলে। এছাড়া জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রুমা বেগম (৩৫) নামে এক নারী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌঁনে ৭টায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টায় তিনি মারা যান। মৃত রুমা খাতুন যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার বাবুল ফারাজীর স্ত্রী।
এদিকে, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নাসিম আহমেদ (৬০) দুপুর ৩টায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল পৌঁনে ৪টায় তিনি মারা যান। মৃত নাসিম আহমেদ নগরীর মহম্মদনগর এলাকার মফিজউদ্দিন আহমেদের ছেলে।
এর আগে শুক্রবার সকালে জরিনা বেগম (৬০) নামে এক নারী এবং মো. আলী (৬০) নামে অপর আরেকজন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ডা. মিজানুর রহমান জানান।
রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আবদুল মোমিন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের চর আফজল এলাকার নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। তিনি কয়েকদিন ধরে জ্বর ও সর্দি-কাঁশিতে ভুগছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. কামনাশিস মজুমদার তথ্যটি জানিয়েছেন।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুবিল গ্রামে করোনার উপসর্গ নিয়ে ওয়াহিদ মিয়া (৬০) ও প্রতিবেশী আলতা মিয়া (৬২) নামে দুই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই বৃদ্ধের জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াহিদ মিয়া ও শুক্রবার সকালে আলতা মিয়ার মৃত্যু হয়।
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর মান্দায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান (৫৪)। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধনী অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে মারা যান তিনি। আনিসুর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ঘোনা গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী মন্ডলের ছেলে। তার স্বজনরা জানান, আনিসুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে মারা যান।
মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ মশিউর রহমান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
বরিশাল অফিস জানান, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এস.এম মুনিরুজ্জামান শাহিন জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে করোনার উপসর্গ নিয়ে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর এলাকার এনামুল হক (৬৬) নামের এক বৃদ্ধ, দুপুর ২টা ০৫ মিনিটে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী এলাকার আ. বারেক (৫৫) নামের এক বৃদ্ধ আইসিইউতে ও দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বরিশাল সদর বিমানবন্দর থানাধীন রায়পাশা এলাকার শামিমা (৩৬) নামের এক মহিলা মৃত্যুবরন করেছেন। মৃত তিন জনের নমুনা সংগ্রহ করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরে জানা যাবে তারা করোনা পজিটিভ ছিলেন কিনা। এ নিয়ে শের-ই বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ৬৫জনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিলেন ২১ জন।
পঞ্চগড়ে করোনা উপসর্গে আব্দুস সামাদ (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার পঞ্চগড় ইউনিয়নের জগদল বাজার এলাকার আফাজনগর গ্রামে। সে ওই গ্রামের নজমল হকের ছেলে।
ইত্তেফাক/এসি