মরিচের দামে মানিকগঞ্জের চাষিরা হতাশ

এবার মরিচের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে এলাকার চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। চাষিদের মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা। উত্পাদন খরচ, খেত থেকে মরিচ তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে যে টাকা খরচ হয় তা উঠছে না। অপরদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় শূন্যের কোটায় মানিকগঞ্জের কাঁচামরিচের রফতানি বাজার। এতে লোকসানে রয়েছে মরিচচাষিরা।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছর মরিচের দাম ভালো হওয়ায় এবার মরিচের আবাদ বেড়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। এবছর ৫ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৭৫০ হেক্টরে। গত বৃহস্পতিবার জেলার বৃহত্তর মরিচ হাট বরংগাইলে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত কৃষক বস্তাভর্তি মরিচ নিয়ে বসে আছেন ভালো দামে বিক্রির আশায়। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে কাঁচামরিচের দাম একই রয়ে গেছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, এবার ২ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে মরিচ কেনা-বেচায় নেমেছিলাম। এ পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকা খোয়া গেছে। তিনি বলেন, বরংগাইল হাট থেকে প্রতিদিন মরিচ কিনে চট্টগ্রামে পাঠাই। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য এই ক্ষতি মেনে নিতে হচ্ছে। বরংগাইল পাইকারি মরিচ বাজারের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক জানান, প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ টন মরিচ বরাংগাইল বাজারে আসে। এখান থেকে ৩২ জন আড়ত্দার মরিচ কিনে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠান। তবে বিমান চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় বিদেশের বাজারে মরিচ রফতানি করা যাচ্ছে না। যে কারণে চাহিদা কমেছে মরিচের। আর এতে করে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

বরংগাইল হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসা কৃষক হরিপদ সরকার জানান, ‘অন্যের কাছ থেকে এক বছরের জন্য বর্গা নিয়ে ১৪ হাজার টাকা খরচ করে মরিচ খেত করেছিলাম। কিন্তু আমাগো এখন মাথায় হাত। মরিচের দাম নাই’। ঘিওর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের চাষি মুন্নাফ মিয়া জানান, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবছর তিন বিঘা জমিতে তিনি মরিচের আবাদ করেছেন। ফলন অনেক ভালো। কিন্তু শ্রমিক সংকট আর শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে খেত থেকে প্রতি কেজি মরিচ তোলা ও পরিবহন বাবদ খরচ হচ্ছে ছয় থেকে আট টাকা। জমি চাষবাস থেকে শুরু করে চারা লাগান এবং পরিচর্যাসহ উত্পাদন খরচ তো রয়েই গেছে। অথচ গত এক সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ১৮ টাকা দরে বিক্রি করছেন। মরিচের এরকম দাম অব্যাহত থাকলে এবার মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান গুণতে হবে।