হত্যার পর টয়লেটে নিয়ে তিন টুকরা করা হয় লাশ!

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে (২৬) খুন ও লাশ তিন টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—শাহীনা আক্তার ওরফে মনি সরকার (১৮) ও তার মা রাশিদা আক্তার (৪৮)। তাদের কাছ থেকে লুটের ৩৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যা মামলার প্রধান আসামি মনি সরকারের স্বামী চার্লস রূপম সরকারকে (২৬) খুঁজছে পুলিশ। মনি সরকার ও রাশিদা গতকাল শুক্রবার নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চার্লস রূপম সরকার নামের ঐ খ্রিষ্টান যুবককে শনাক্ত করা হয়। তাকে লাশের খণ্ডিত অংশের বস্তাটি রিকশায় করে নিয়ে ঝোপে ফেলে দিতে দেখা যায়। পরে উত্তরার প্রেম বাগান ও আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে মনি সরকার ও তার মা রাশিদাকে গ্রেফতার করা হয়। তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসার টাকা লুটের জন্য হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

স্বীকারোক্তিতে আসামিরা জানান, হেলাল উদ্দিন উত্তরা এলাকায় বিকাশ, মোবাইল রিচার্জ এবং ফটোকপির ব্যবসা করতেন। তার ব্যবসা বেশ ভালো চলছিল। তার কাছে অনেক অর্থ আছে বলে আসামিদের সন্দেহ হয়। তারা লোভের বশবর্তী হয়ে পরস্পরের যোগসাজশে অর্থ লুটের অংশ হিসেবে হেলালের কাছে একটি ফটোকপি মেশিন বিক্রির প্রস্তাব দেয়। ফটোকপি মেশিনটি বাসায় আছে বলে জানায়। হেলাল ফটোকপি মেশিন কেনার জন্য নগদ কিছু টাকাসহ রূপম সরকারের ভাড়া বাসা দক্ষিণখান থানার  মোল্লারটেক, তেঁতুলতলা বেকারির মোড়ে একটি বাড়ির দোতলায় যায়। কথাবার্তার একপর্যায়ে ঘুমের ওষুধ মেশানো চা-পান করানোয় হেলাল জ্ঞান হারান। পরে রূপম সরকার ও মনি সরকার দুই জনে মিলে ডিশ লাইনের তার গলায় পেঁচিয়ে হেলালের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর হেলালের লাশ গুমের কৌশল হিসেবে রূপম সরকার লাশটি টয়লেটে নিয়ে যায়। সেখানে রূপম ও মনি সরকার মাছ কাটার বটি এবং ছুরি দিয়ে কুপিয়ে প্রথমে হেলালের শরীর থেকে মস্তক আলাদা করে। এরপর তার লাশের নাভি থেকে নিচের অংশ আরেকটি টুকরা করে। লাশের টুকরাগুলো পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে  নেয়। এরপর লাশের নাভি থেকে পা পর্যন্ত একটি সিনথেটিকের সাদা বস্তায় ভরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে দক্ষিণখানের মুক্তিযোদ্ধা সড়কের বটতলা এলাকায় একটি বাড়ির সামনের অংশে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। নাভি থেকে গলা পর্যন্ত অংশটি আরেকটি বস্তায় ভরে বিমানবন্দর থানার হাজি ক্যাম্পসংলগ্ন ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে আসে। মাথার অংশটি তারা গাওয়াইর কবরস্থানসংলগ্ন একটি ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ ও ১৬ জুন লাশের টুকরাগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সঙ্গে আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে হেলাল উদ্দিনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।