নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডারগ্যাপ সূচকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অগ্রগতি হলেও নারী নির্যাতনের ঘটনা কমেনি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের প্রতিবেদন মতে, ২০১৮ সালে উদ্বেগজনকহারে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিসহ মোট ৩ হাজার ৯১৮ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত এক বছরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৯৪২টি। তন্মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৮২ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২৮ জন নারী ও কন্যাশিশুকে। এ সময় শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে ৭১ জন এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৪৬ জন। এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ১৯ জন নারী ও কন্যাশিশু। যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। অগ্নিদগ্ধ হয়েছে ৭৩ জন, যাদের মধ্যে অগ্নিদগ্ধের কারণে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। উক্ত সময়ে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ১৪৫টি। ৪১ জন নারী ও শিশু পাচার করা হয়েছে, তন্মধ্যে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে ১৫ জনকে। ৪৮৮ জন নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
এ সময় হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ৩৯ জনকে। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২১২ জন নারী; এদের মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে ১০২ জনকে। গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৮৭ জন, তন্মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৫৮ জনকে এবং নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে ৪ জন গৃহপরিচারিকা। উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ১৭১ জনকে, তন্মধ্যে উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছে ১৪ জন। ফতোয়ার শিকার হয়েছে ১২ জন।
এ সময় বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে ৩০৫ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে এবং আরও ১৮ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। গত এক বছরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশু এবং ৩৭৭ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ সময় বাল্যবিয়ের সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি, তার মধ্যে ৫২টি বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৪১টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে। এ সময় পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৯ জন নারী ও কন্যাশিশু। শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে ২৮১ জনকে। গত এক বছরে জোরপূর্বক বিয়ের শিকার ২১ জন। এ ছাড়া অন্যরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
উল্লেখ্য, মহিলা পরিষদ মনে করে যেহেতু পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তাই প্রকৃতপক্ষে নির্যাতনের ঘটনা আরও অনেক বেশি। কারণ অনেক নারী নির্যাতনের ঘটনাই পত্রিকায় পর্যন্ত আসে না। থেকে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে।