পাটগ্রামে লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব

ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে ব্যাপকহারে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভাইরাসজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গরুর এ রোগের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। পাটগ্রাম ইউনিয়নের কচুয়ারপাড় এলাকার কৃষক তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দুইটি গরুর শরীর ফুলে গেছে। গ্রামের এক পশু চিকিত্সকের নিকট ব্যবস্থাপত্র লিখে নিয়েছি। বাজারে ঘুরেও ওষুধ মিলছে না। গবাদিপশুর গ্রাম্য চিকিত্সক আমিনুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ১০টি গরুর মধ্যে আটটি গরুরই লাম্পি স্কিন ডিজিজ। এক সপ্তাহে কমপক্ষে ৩০০ গরুর চিকিত্সা দিয়েছি।’ অপর এক গ্রাম্য চিকিত্সক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ‘গরুর লাম্পি স্কিন রোগে ব্যবহূত ওষুধগুলো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। ওষুধ সংকটের কারণে বেশি দাম দিয়ে কৃষকদের কিনতে হচ্ছে।’ গবাদিপশুর ওষুধ বিক্রেতা কাজী ভেটেরিনারী নেটের স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর লাম্পি স্কিন ডিজিজ ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদা উল্লেখ করে গত ১০ দিন আগে অর্ডার দিয়েও ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না।’ পাটগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আজিজ প্রধান বলেন, ‘গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগটি ভাইরাসজনিত। পাটগ্রাম উপজেলায় এ রোগে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে ৪০০ গরুর সন্ধান পেয়েছি। বাজারে গবাদিপশুর ওষুধ সংকটের কথা জেনেছি।’

কমলগঞ্জে রোগাক্রান্ত পশু জবাই ও বিক্রি

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকহারে গবাদিপশুর লাম্পিং স্কিন ডিজিজ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে একাধিক গরু মারা যাওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। এই সময়েও কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই পৌরসভাসহ হাটবাজারে রোগাক্রান্ত পশু জবাই ও মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে করোনার সময়কালেও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে বলে অভিযোগ উঠেছে। সুমন আহমদ, রোমেল মিয়া, কায়েস আহমেদসহ মাংস ক্রেতারা বলেন, বাজারে নিম্নমানের ও অসুস্থ পশু জবাই করে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমেদ বলেন, নিয়মনীতি মেনে পশু জবাই করার জন্য কসাইদের বলেছি। কমলগঞ্জ উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. দুলাল আহমদ বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেদায়েতউল্লাহ বলেন, এখানে কোনো স্বীকৃত কসাইখানা নেই। তাছাড়া পশু জবাই কোনো নির্দিষ্ট স্থানে হচ্ছে জানলে বা আমাদের জানালে সেখানে লোক রাখতাম।